বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মীর কাসেমের ফাঁসিতে তুরস্কের প্রতিক্রিয়ার কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশের

মীর কাসেমের ফাঁসিতে তুরস্কের প্রতিক্রিয়ার কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশেরএকাত্তরে যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলীর মৃত‌্যুদণ্ড কার্যকর করার পর যে প্রতিক্রিয়া তুরস্ক দেখিয়েছে, তা কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এ বিষয়ে সোমবার ঢাকায় তুরস্ক দূতাবাসে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানো হয়েছে।

রোববার তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়- তারা জেনে দুঃখিত যে, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং প্রধান অর্থদাতা মীর কাসেম আলীকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে বাংলাদেশ।

এ প্রক্রিয়ায় ‘অতীতের ক্ষত নিবারণ হয় না’ বলেও মন্তব্য করা হয় ওই বিবৃতিতে।

তুরস্কের এই অবস্থানে হতাশা প্রকাশ করে বাংলাদেশের প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, তাদের এ ধরনের প্রতিক্রিয়া একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের ‘অভ‌্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের শামিল’।

মুক্তিযুদ্ধকালীন চট্টগ্রামের আল-বদর নেতা মীর কাসেম আলীকে গত ৩ সেপ্টেম্বর ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মানবতাবিরোধী অপরাধের সাজা কার্যকর করা হয়।

মীর কাসেমের ফাঁসিতে তুরস্কের প্রতিক্রিয়ার কড়া প্রতিবাদ বাংলাদেশেরএকাত্তরে তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বেই আলবদর বাহিনী চট্টগ্রামে হত‌্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল এবং তিনি নিজেও তাতে অংশ নিয়েছিলেন বলে উঠে আসে আদালতের বিচারে।

যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিতদের ফাঁসি কার্যকর ঠেকাতে এর আগেও বেশ কয়েকবার এ ধরনের বক্তব‌্য-বিবৃতি এসেছে তুরস্কের পক্ষ থেকে।

গত মে মাসে যুদ্ধাপরাধের দায়ে জামায়াতের আমির মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কার্যকরের পর তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিজেপ তায়েপ এরদোয়ান বলেন, মৃত্যুদণ্ড হওয়ার মতো ‘পার্থিব কোনো পাপ’ নিজামীর নেই বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

এরপর তুরস্ক ঢাকায় তাদের রাষ্ট্রদূত ডেভরিম ওসতুর্ককে ‘পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য’ দেশে ডেকে পাঠালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়।

তিন মাস পর ওসতুর্ক যখন ঢাকায় ফেরেন, তখন তার সুর ছিল অনেকটাই নরম। ১৬ অাগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর কোনো অভিপ্রায় তার দেশের নেই।

কিন্তু মাস পার না হতেই তুরস্কের পক্ষ থেকে একই কাজ করা হল।

সোমবারের বিবৃতিতে যুদ্ধাপরাধী কাসেমের শাস্তিকে ‘ভুল চর্চা’ দাবি করে তুরস্ক বলছে, এটা বাংলাদেশের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের মধ্যে বিভেদ তৈরি করবে না বলে তারা আশা করছে।

আরও পড়ুন