বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

তরুণী ফুটবলারদের জড়িয়ে ধরে আনন্দ উদযাপন নিয়ে সমালোচনার ঝড়

তরুণী ফুটবলারদের জড়িয়ে আনন্দ উদযাপন নিয়ে সমালোচনার ঝড়এএফসি অনুর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের মূল পর্বে জায়গা করে নিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা। বাছাই পর্বে সি গ্রুপ থেকে অপরাজিত থেকেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। শেষ ম্যাচে অধিনায়ক কৃষ্ণার জোড়া গোলে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

চুড়ান্ত পর্ব নিশ্চিত হয়েছিলো আগেই। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে গ্রুপের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ আরব আমিরাতকে প্রথম থেকে কোনো পাত্তাই দেয়নি বাংলাদেশ।

ম্যাচ শেষে উদযাপনে মেতে উঠে বাংলাদেশ টিমের তরুণীরা। এসময় গ্যালারিতে থাকা লেখক ও প্রথম আলোর সহযোগী সম্পাদক আনিসুল হক মাঠে নেমে এসে উল্লাসমুখর তরুণীদের জড়িয়ে ধরতে থাকেন। একে একে এক সাথে বেশ কয়েকজনকে পুরোপুরি বুকের সাথে জড়িয়ে ধরে ‘উদযাপন’ করেন লেখক আনিসুল হক।

বাংলাদেশের এই নারী খেলোয়াড়রা হয়তো বয়সে আনিসুলে হকের মেয়ের বয়সী। কিন্তু তারা তো একেবারে বাচ্চা মেয়ে নন। তারা একটি দেশের জাতীয় দলের খেলোয়াড়। মাঠে নেমে গিয়ে আনিসুল হকের এই অতি উৎসাহী আচরণ নিয়ে পরবর্তীতে খেলোয়াড়দের অনেকের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া হয়। এছাড়া বিষয়টি ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় বইয়ে দেয়।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর এক নারী ফেইসবুকার ইনবক্সে জানিয়েছেন তার সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের কাহিনী।

সেই নারীর ফেসবুকে করা মন্তব্য:
স্কুলে কিছু লুইচ্চা টিচার ছিলেন। যাদের কাজই হল বিভিন্ন উছিলায় মেয়েদের গায়ে হাত দেয়া। এরকম একজন টিচার ক্লাসে থ্রিতে পেয়েছিলাম। আমরা তখন বুকে স্কুলের ব্যাজ পরতাম। সেই পুরুষ শিক্ষক মাঝে মাঝেই আমাদের ব্যাজ ঠিক করে সঠিক স্থানে লাগিয়ে দিতেন। মানে আমাদের ব্যাজ নাকি বুকের বাম পাশে যেখানে লাগানোর কথা সেখানে লাগানো হয় নি। আমি তখন অনেক ছোট বলে ব্যাপারট বুঝতে পারিনি। তবে বাবার বয়সী শিক্ষক বুকে ব্যাজ ঠিক মত পরিয়ে দিচ্ছেন ভেবে ভালই লাগত। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা চলে আসত। তবে খেয়াল করেছিলাম, ক্লাসের নাদুস নুদুস মেয়েটিকেই উনি বেশি সময় নিয়ে ব্যাজ পরিয়ে দিতেন।

আরেক শিক্ষক ছিল যিনি ইংরেজী পড়াতেন। উনি ক্লাসের মেয়েদের হাতের নখ পরীক্ষা করতেন। প্রত্যেক মেয়ের হাত ধরেই তিনি নখের সাইজ দেখতেন। নখ বড় হোক কিংবা ছোট হোক না কেন সবার হাতই ধরতেন। তখনও ছোট বলে শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধায় মাথা অবনত হয়ে যেত। বিশেষ করে ক্লাসের সুন্দরী মেয়েগুলির নখ বেশি করে দেখতেন। উনি আবার হাতও দেখতে পারতেন! অর্থাৎ হাত দেখে মেয়েদের ভবিষ্যৎ বানী করতে পারতেন। আমরা মেয়েরা সেই ভবিষ্যৎ বানী শোনার আশায় বার বার স্যারের কাছে হাত বাড়িয়ে দিতাম।

এভাবেই ভালই দিন কাটছিল। কিন্তু ভেজাল লাগালেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক। তিনি কোন এক ফাঁকে ব্যপারটা দেখে ফেলেছিলেন। সেদিনের পর থেকে সেই শিক্ষককে দেখিনি। আর পরদিন থেকে সেই ব্যাজ পরানো শিক্ষকও আমাদের ব্যাজ ঠিক করে দিতেন না। উনি ব্যাজের দিকেই তাকাতেন না।

বড় হবার পরে ব্যপারটা যখন বুঝতে পারলাম তখনই ঘৃনায় গা গুলিয়ে যেত। একজন পুরুষ মানুষ তার কণ্যার বয়সী মেয়েদের শরীরে বিভিন্ন ছুতায় যেভাবে হাত দিতেন তা ভাবতেই কেমন যেন লাগছে। আমি এখন খুব সচেতন। নিজের মেয়েও স্কুলে পড়ে। স্কুলে ভর্তি করানোর আগে খবর নিয়ে দেখছি ঐ স্কুলে কোন পুরুষ শিক্ষক আছে কিনা। লেখাপড়া পরে কিন্তু তার আগে মেয়ের ভবিষ্যত। এই বয়সে যদি সে সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের শিকার হয় তাহলে ভবিষ্যতে সে মানসিক সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে।
ভাল থাকবেন ভাইয়া।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *