দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে শপথভঙ্গকারী খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পদত্যাগের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী।
দুই মন্ত্রীর বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, রায়ে তিনি যতটুকু দেখেছেন তাতে দুই মন্ত্রীর বিষয়ে সাতজন বিচারপতির মধ্যে চারজন বলেছেন যে তাঁরা শপথ ভঙ্গ করেছেন। অন্য তিনজন বিচারপতি শপথ ভঙ্গের বিষয়টি তাঁদের রায়ে উল্লেখ করেননি। সংখ্যাগরিষ্ঠ রায়ে দুই মন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন উল্লেখ করলেও এই শপথ ভঙ্গের দায়ে মন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ বা অপসারণের বিষয়ে রায়ে কিছু বলা হয়নি। তিনি বলেন, আদালত অবমাননার দণ্ড এবং শপথভঙ্গ করায় তাঁদের মন্ত্রিত্ব থাকবে, না কি থাকবে না এই নিয়ে বিদ্যমান আইনে কিছু উল্লেখ নেই। রায়েও কিছু বলা হয়নি এই বিষয়ে। এটি একটি নতুন বাস্তবতা। এ অবস্থায় তাঁদের পদত্যাগ বা অপসারণের প্রয়োজন আছে বলে আইনমন্ত্রী মনে করেন না।
নৈতিকতার দিক থেকে কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হকের কী করা উচিত জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘নৈতিকতার বিষয়টি একান্তই তাঁদের নিজস্ব ব্যাপার।’
গত ২৭ মার্চ আদালত অবমাননার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। এ জন্য তাঁদের ৫০ হাজার করে এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ডাদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ।
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পাওয়া মীর কাসেম আলীর আপিলের রায়কে কেন্দ্র করে প্রধান বিচারপতির বক্তব্যের সমালোচনা করে গত ৫ মার্চ রাজধানীতে এক সেমিনারে বক্তব্য দেন সরকারের দুই মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও আ ক ম মোজাম্মেল হক। প্রধান বিচারপতি তাঁর আসনে থাকতে চাইলে ‘অতিকথন’ বন্ধ করা উচিত বলে মন্তব্য করেন এক মন্ত্রী।
একই সঙ্গে মীর কাসেম আলীর মামলায় আপিল বিভাগের শুনানিতে প্রধান বিচারপতি যেসব মন্তব্য করেছেন, তার পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে বাদ দিয়ে নতুন বেঞ্চ গঠন করে ওই মামলায় পুনরায় শুনানি করার আহ্বান জানান দুই মন্ত্রী।


