বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মালয়েশিয়ায় শিকল পরা ৮ বাংলাদেশি উদ্ধার

মালয়েশিয়ায় শিকল পরা ৮ বাংলাদেশি উদ্ধারমালয়েশিয়ায় শিকল পরা অবস্থায় আট বাংলাদেশিসহ নয় ব্যক্তিকে উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। ধারণা করা হচ্ছে, এরা সবাই মানবপাচার ও অপহরণের শিকার।

মালয়েশিয়ার ইংরেজি সংবাদ মাধ্যম দ্য স্টার ডটকম জানিয়েছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে দেশটির কেদার পেনদাং জেলার কাম্পুং চারক কেলাদি এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ওই নয় ব্যক্তিকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় এঁদের পায়ে শিকল বাঁধা ছিল। উদ্ধারের সময় তাঁরা খুবই দুর্বল ও ক্ষুধার্ত ছিল।

নয় ব্যক্তির মধ্যে আট বাংলাদেশি এবং একজন মিয়ানমারের নাগরিক। এঁদের সবার বয়স ২২ থেকে ৪৫ বছরের মধ্যে।

কেদাহ পুলিশপ্রধান দাতুক আশ্রী ইউসুফ মঙ্গলবার স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ২৯ আগস্ট সুংগাই পেতানির একটি নির্মাণাধীন ভবন এলাকা থেকে ছয়জন বাংলাদেশি শ্রমিক অপহৃত হয়। এই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্যই অভিযান চালায় পুলিশ।

নির্যাতনের শিকার সব বাংলাদেশি নাগরিকের পরিবারকেই ফোন করে ১৫ হাজার রিঙ্গিত বা তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয় বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। তা না হলে এঁদের মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেখান থেকে অপহৃত ছয় নির্মাণ শ্রমিককে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া উদ্ধার হওয়া বাকি তিন ব্যক্তি পেরাক এবং কুয়ালালামপুর থেকে অপহৃত হয়েছিলেন।

আশ্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে চারজন স্থানীয় ব্যক্তি, এক বাংলাদেশি ও এক মিয়ানমারের নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরও রয়েছে। তার বাবা এর আগে দুটি অপহরণের ঘটনায় পুলিশের সন্দেহভাজনের তালিকায় রয়েছেন।

এ ছাড়া যে বাংলাদেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে তিনি অপহৃতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষাকারী হিসেবে মধ্যবর্তী ব্যক্তি হিসেবে কাজ করতেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো একজন বাংলাদেশি ও এক স্থানীয় নারীকে খুঁজছে পুলিশ।

এই আটকের মধ্য দিয়ে কেদাহ, পেনাং, পেরাক এবং কুয়ালালামপুরের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটকে অকেজো করা সম্ভব হবে বলে মনে করছে রাজ্যটির পুলিশ। দেশটির অপহরণ আইন ১৯৬১ এর ৩ (১) ধারা, অ্যান্টি ট্রাফিকিং ইন পার্সন অ্যাক্ট অ্যান্ড অ্যান্টি স্মাগলিং অব মাইগ্রেন্ট অ্যাক্ট ২০০৭ এর ১৩ ধারায় মামলার তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *