বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারীদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার আগে ভাবুন

নারীদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করার আগে ভাবুনবিতর্কিত মন্তব্য করা ব সাধারণ বিষয়। বিশেষ করে নারী নির্যাতনের ঘটনার পর এমন মন্তব্য শোনা যায়।

সম্প্রতি ভারতের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী মহেশ শর্মা বলেছেন, বিমানবন্দরে আসার পরই নারী পর্যটকদের বলে দেওয়া উচিত তারা যেন স্কার্ট বা এ জাতীয় পোশাক না পরে। এছাড়া ছোট ছোট শহরে যখন যাবে তখন যেন রাতের বেলায় একা একা বের না হয়।

দুঃখের বিষয় হলো তিনিই প্রথম নন। নারীরা কী পরবেন আর কী পরবেন না অথবা কী করলে তারা নিরাপদে থাকবেন এবং ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটবে না তার পরামর্শ দেন। বারবারই তারা বলেন, নারীদের জিন্স, শর্ট স্কার্ট কিংবা শর্টস না পরতে। এমনকি মেয়েদের ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে রাতে একা একা ঘুরতে না যেতে বা মোবাইল ফোন ব্যবহার না করার পরামর্শও দেন।

তদের মতে, মেয়েদের পোশাক ও তাদের আচরণের কারণেই তারা ধর্ষণের শিকার হয়। তাদের আচরণই ছেলেদের এমন অপরাধ করতে উসকানি দেয়। মেয়েদের জন্য এ ধরনের অপরাধ দিন দিন বেড়েই চলেছে।

২০১২ সালের ডিসেম্বরে দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের এক তরুণী গণধর্ষণের শিকার হয়ে মারা যাওয়ার পর ভারত এবং পুরো বিশ্ব জুড়ে নারীদের নিরাপত্তার জন্য অনেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নারী নির্যাতন নিয়ে অনেকেই সোচ্চার হয়েছেন। এমনকি বিচার ব্যবস্থা, বিদ্যমান আইন, পুরুষ শাসিত ভারতীয় সমাজে থাকা অনেক আচরণ পরিবর্তনের দাবিও ওঠে। সবকিছু নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। কিন্তু তারপরও থেমে যায়নি এ নির্যাতন।

নারীদের পোশাক সংক্রান্ত রাজনৈতিক নেতারা যেসব মন্তব্য করেছেন তা মানতে নারাজ নারীবাদী ও বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নারীর শর্ট স্কার্ট পরপর সঙ্গে ধর্ষণের কোনো যোগসাজোশ নেই।

নারী বিষয়ক দিল্লির প্রধান কমিশনার সোয়াতি মালিওয়াল বলেন, ‘নারীরা কী ধরনের পোশাক পরবে বা পরবে না সে বিষয়ে রাজনৈতিক নেতাদের কথা বলা বন্ধ করাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। সময় এসেছে রাজনীতিবিদদের ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে হালকা করে দেখানোর প্রবণতাকে। তারা স্বীকার করুক আর নাই করুক এটা গুরুতর সমস্যা।’

গুরুতর সমস্যা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্যকারীদের কিছু পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের সাবেক জনসংযোগ কর্মকর্তা ছায়া শ্রীভাসতা। তিনি মহেশ শর্মার মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেছেন, পোশাকের কথা না বলে তিনি নারী পর্যটকদের পরামর্শ দিতে পারতেন যে রাতের তারা যদি কোনো ক্যাবে ওঠে তাহলে গাড়ির নম্বর প্লেটের ছবি তুলে বন্ধু বা পরিবারের সদস্যদের মেইল করে রাখা। কারণ তিনি তো জানেন না ওই গাড়ির চালক তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করবেন না। এই বিষয়টি আমাদের রাজৈনৈতিক নেতারা কখনো ভেবে দেখেন না। কোন বিষয়ে কেমন আচরণ করতে হবে কা কী কথা বলতে হবে তা তারা জানেন না। এ ধরনের মন্তব্যের পর শুধু দুঃখিত না বলে কথা বলার আগেই সাবধান হতে হবে।

কৌতুক অভিনয় শিল্পী নেতি পালতা কিছু পরামর্শ দিয়েছেন রাজনীতিবিদদের। পরামর্শগুলো হলো:
১. কথা বলার আগে মনে রাখবেন এটা শুধু পোশাকের বিষয় না। পুরুষরা নারীর পোশাকে ধর্ষণ করে না। করে পোশাকবিহীন নারীকে।
২. জনসম্মুখে কথা বলার আগে অন্তত তিনজন নারীকে দিয়ে যাচাই করে নিন যা বলছেন তা ঠিক বলছেন কিনা।
৩. কথা বলা আগে ভাবুন এটা ২০১৬ সাল। যুক্তিহীন কোনো কথা বলে লাভ নেই।
৪. নিজে অন্ধকারে আছেন বলে ভাববেন না যে সবাই অন্ধকারে আছেন।
রাজনীতিবিদরা নারীদের কোনও পোশাককে শালীন বলে মনে করেন না। ঐতিহাসিক কাল থেকে ভারতীয় নারীদের প্রধান পোশাক ছিল শাড়ি। ভারতের জাতীয় পোশাক বলতে শাড়িকেই বোঝান রাজনীতিবিদরা। তাহলে কী শাড়ি পরলেই নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা বন্ধ হয়ে যাবে? কোনো শাড়ি পরা নারী কি নির্যাতনের শিকান হন না? শাড়ি পরলেই যে নারীরা নির্যাতনের শিকার হবে না সেই নিশ্চয়তা কী দিতে পারেন রাজনীতিবিদরা?
সূত্র: বিবিসি।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *