বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিলেটের রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারি

সিলেটের রাগীব আলী ও তার ছেলের বিরুদ্ধে সমন জারিসিলেটের শিল্পপতি রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পলাতক থাকা অবস্থায় নিজেদের মালিকানাধীন পত্রিকা ‘দৈনিক সিলেটের ডাক’ এর প্রিন্টার্স লাইনে প্রকাশক, মুদ্রক ও সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি হিসেবে রাগীব আলী এবং সম্পাদক হিসেবে আবদুল হাইয়ের নাম ব্যবহার করায় এ মামলা দায়ের করা হয়।

বৃহস্পতিবার সুনামগঞ্জের ছাতক প্রেসক্লাবের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন তালুকদার বাদী হয়ে সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরোর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। শুনানি শেষে আদালত রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাইয়ের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন।

মামলায় বাদী পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবুল হাসান, অ্যাডভোকেট সফিকুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সজল কুমার রায়, অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মুজিবুল হক, অ্যাডভোকেট শহীদুল হক শাহীন ও অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম।

মামলায় ফাঁকিবাজির মাধ্যমে পত্রিকা প্রকাশ করে পাঠকদের প্রতারিত করায় আসামিদের প্রতিদিনের অপরাধের জন্য আইনে নির্ধারিত সাজা হিসবে প্রকাশক ও মুদ্রক রাগীব আলীকে ৫৮ বছর এবং সম্পাদনার জন্য আব্দুল হাইকে ২৯ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করার আবেদন জানান বাদী।

মামলায় ৫জনকে সাক্ষী করা হয়েছে। তারা হলেন- বশির আহমদ, আবু তাহের চৌধুরী, ফারুক আহমদ, আমিনুল ইসলাম হীরন, কোতয়ালী থানার ওসি সুহেল আহমদ।

গিয়াস উদ্দিন তালুকদার তার আবেদনে উল্লেখ করেন, দৈনিক সিলেটের ডাক বৃহত্তর সিলেটের অন্যতম শীর্ষ পত্রিকা। পত্রিকার প্রকাশক, মুদ্রক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সভাপতি হিসেবে রাগীব আলী এবং সম্পাদক হিসেবে আবদুল হাই বহুল পরিচিত। এ দুইজনের বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালী থানায় জিআর ৭৪/২০০৫ এবং জিআর ১১৪৬/২০০৫ নং মামলায় গত ১০ আগস্ট গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই জকিগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান। কোনো পলাতক আসামি আইনের সুবিধাভোগী হতে পারেন না। সংবাদপত্র একটি আইনী প্রকাশনা। সিলেটের ডাক-এর সম্পাদক, প্রকাশক, মুদ্রক আদালতে আত্মসমর্পণ না করে স্বীয় নাম ব্যবহার করে পত্রিকা প্রকাশ করতে পারেন না। আইন লঙ্ঘন করে নাম ব্যবহার করে পাঠকদের সঙ্গে ফাঁকিবাজি ও প্রতারণা করা হচ্ছে।

গত ১১ আগস্ট থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাগীব আলী ও তার ছেলে আবদুল হাই তাদের নাম যুক্ত করে দৈনিক সিলেটের ডাক প্রকাশ করে উপর্যুপুরি প্রতারণার করে চলেছেন। পলাতক অবস্থায় সম্পাদনাজনিত প্রতারণার জন্য আবদুল হাই ২৯টি সংখ্যা প্রকাশ করে ২৯টি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

অন্যদিকে রাগীব আলী প্রকাশক ও মুদ্রক হিসেবে দ্বৈত সত্ত্বায় প্রতিদিন ২টি করে অপরাধের দায় বহন করায় অপরাধের সংখ্যা দাঁড়ায় ৫৮টিতে।

রাগিব আলীর জালিয়াতির তথ্য দেয়নি রাজউক: রাগিব আলীর জালিয়াতি সংক্রান্ত কোনো রেকর্ডপত্র দেয়নি রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। ১ সেপ্টেম্বর এক চিঠিতে রেকর্ডপত্র তলব করে ৯ সেপ্টেম্বরের তা দুদকে পৌঁছাতে বলা হয়। বৃহস্পতিবার ছিল রেকর্ডপত্র সরবরাহে নির্ধারিত সময়ের শেষ দিন। সময় বাড়ানোর কোনো আবেদনও পড়েনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ১৯(৩) ধারায় তাগিদপত্র দেয়া হবে বলে জানা গেছে।

দুদক সূত্র জানায়, ভুয়া দলিলের মাধ্যমে ২২ কাঠা ২ ছটাক জমি বিক্রি করে দেন রাগিব আলী। এ সম্পত্তি তিনি বিক্রি করেছেন এক্সিম ব্যাংকের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদারের কাছে। এ জমি অগ্রণী ব্যাংকের কাছেও বন্ধক রয়েছে। গুলশানের ৩৬ নম্বর রোডের ৩৩ নম্বর বাড়ির ওই জমির মূল মালিক এ আর এ জুট ট্রেডিং করপোরেশন। দুদকের উপ-পরিচালক মো. জুলফিকার আলী অভিযোগ অনুসন্ধান করছেন।

আরও পড়ুন