গত একমাস আগের কথা, আমি তখন বারিধারা থেকে মাত্র বাসায় পৌঁছেছি, মোবাইল বেজে উঠলো, আমি রিসিভ করতেই আমার স্বামী, যিনি নৌ বাহিনীর একজন কমান্ডার, জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি বাসায়?
বললাম হুম।
আমাকে তখন বলল কফি বসাও শশুর বাড়ি এলাকার একজন গেস্ট আছে, লিফটে আছি আসছি।
আমি বললাম কে সে?
উনি বললেন সাবিক-এর (আমার ছেলে) পাসপোর্ট এর verification এর জন্য পুলিশ আসছে।
ততক্ষণে কলিং বেল বেজে উঠলো।
আমি ড্রইং রুমে বসতে দিয়ে নিজ হাতে আম কেটে, কফি বানিয়ে, মিষ্টি দিয়ে তার সামনে হাজির হলাম।
প্রয়োজনীয় কাজ ছাড়াও তিন জনের অনেক কথা হলো। যেহেতু ঝিনাইদহ বাড়ি এই পুলিশের, সেহেতু কুষ্টিয়ার মানুষ হিসেবে আপন মনে হচ্ছিল।
যায় হোক উনি কাজ শেষে বিদায় নিলেন।
পরিশেষ খবর পাসপোর্ট আর রেডি হয়নি।
কারণ জানতে কমান্ডার সাহেব সচিবালয় এর মিটিং শেষে সোজা পাসপোর্ট অফিস।
ওখানে গিয়ে দেখেন, সেই পুলিশের বাচ্চা রিপোর্ট দিয়েছে “”উক্ত ঠিকানায় এই নামের কাউকে পাওয়া যায়নি”‘—-
তদন্তে বেরিয়ে আসলো আমারা তাকে কোনো (ঘুষ) টাকা দেয়নি তাই।
আমার ছেলে একজন উচ্চ পদস্থ সামরিক অফিসারের ছেলে, তার পাসপোর্ট বানাতে ঘুষ দিতে হবে?
নৌ সদর দপ্তর এর বাসায় স্বয়ং উপস্থিত হয়েও যদি একজন এ এস আই, কয়টা টাকার জন্য এই কাজ করতে পারে, তাহলে সারা দেশের কি অবস্থা, আসলেই কি ভাবার বিষয় নয়?
যদিও ওই পুলিশের হয়ে ক্ষমা চেয়েছে তার ওসি। আর পাসপোর্টও আজ হাতে পেয়েছি।
ছবিগুলো ঘুষখোর পুলিশের ঘুষ না পেয়ে যে রিপোর্ট দিয়েছিল, সেই কপির।
(Fatema Haque Mukta Moni‘র ফেসবুক পোস্ট থেকে সংগৃহীত। যা ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে উঠেছে)



