রাঙামাটিতে বাসের সঙ্গে অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। রোববার বিকেলে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কের রাঙামাটি পৌরসভার শিমুলতলী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের পর বাসটি উল্টে অটোরিকশাসহ সড়কের পাশে পাহাড়ি খাদে পড়ে যায়। খাদটি ২০০ ফুট গভীর হলেও বাসটি ২০ ফুট নিচে একটি বড় গাছের সঙ্গে আটকে যায়। বাসের নিচে ছিল অটোরিকশা।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতাল থেকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। আটজনকে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যরা রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা নিয়েছেন। আহত কয়েকজন যাত্রী বলেন, বাসটি খাদের গভীরে পড়ে যাওয়ার আগে একটি গাছের সঙ্গে আটকে যাওয়ায় তাঁরা প্রাণে বেঁচে গেছেন। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে নয়জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন মঙ্গলী দাস, মমতা চাকমা, সানজিদা, বিপ্লব ধর, অদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা, দীপন চাকমা, মঞ্জু দেব, পূর্ণবালা তঞ্চঙ্গ্যা ও রবি মোহন তঞ্চঙ্গ্যা।দুর্ঘটনায় দুমড়েমুচড়ে যাওয়া অটোরিকশা।
রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মংক্য চিং সাগর বলেন, আহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগ মাথা, বুক, হাত ও পায়ে আঘাত পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিমুলতলী এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, বিকেল সোয়া চারটার দিকে চট্টগ্রাম থেকে আসা পাহাড়িকা পরিবহনের বাসটির সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর বাসটি অটোরিকশাসহ সড়কের পূর্বদিকের পাহাড়ের খাদে পড়ে যায়। বাসটিতে দুর্ঘটনার পর রাঙামাটি জেলার প্রশাসক মো. সামসুল আরেফিনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। আহত যাত্রীদের দেখতে পরে তাঁরা হাসপাতালে যান।
গতকাল বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাসটি সড়কের প্রায় ২০ ফুট নিচে পাহাড়ের খাদে গাছের সঙ্গে আটকে আছে। বাসটির নিচে দুমড়েমুচড়ে রয়েছে অটোরিকশাটি।
দুর্ঘটনাস্থলে ছিলেন রাঙামাটি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রশীদ। তিনি বলেন, তাৎক্ষণিকভাবে বাস ও অটোরিকশার চালকের খোঁজ পাওয়া যায়নি। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই চালক রয়েছেন কি না তা খুঁজে দেখা হবে। তিনি বলেন, দুর্ঘটনার পর সেনাবাহিনী, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার অভিযান চালান। আশপাশের লোকজনও দুর্ঘটনার পর যাত্রীদের উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।


