বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিসিএসের প্রশ্ন নকল করে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরি

বিসিএসের প্রশ্ন নকল করে ঢাবি ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরিঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের সঙ্গে ২১তম বিসিএস এর প্রশ্নপত্রের একটি বড় অংশ হুবহু মিলে গেছে। এই দৃশ্য দেখা গেছে ‘জেনারেল ইংলিশ’ প্রশ্নের ‘প্যাসেজ’ ও ‘মাল্টিপল কোয়েশ্চেন’ অংশে। পরীক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষাবিদ ও বিশ্লেষকরা বিষয়টির সমালোচনা করেছেন।

শুক্রবার সকাল ১০টায় ঢাবির ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা হয়। তাতে অংশ নেওয়া ঝিনাইদহের শিক্ষার্থী রাসেল রানা বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যদি বিসিএসের প্রশ্নপত্র নকল করে, তাহলে শিক্ষার মান কোথায় গিয়ে ঠেকবে, কে জানে? আমরা যারা আজ পরীক্ষা দিয়েছি, তাদের অনেকেই জানিয়েছে, তাদের এ প্যাসেজটি ভালো হয়নি।’

প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ার ঘটনায় সমালোচনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘এটা কিভাবে সম্ভব? চার বছরের অনার্স পড়ার পর চাকরি নিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা যে মেধা অর্জন করে, ঠিক সেই মানের প্রশ্ন হয় বিসিএসে। কিন্তু ওই একই প্রশ্ন সদ্য কলেজ পাস করা শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় দেওয়া হলে তা কতোখানি অপ্রাসঙ্গিক হবে, বোঝাই যাচ্ছে। তারপরও প্যাসেজ মিল থাকতে পারে; কিন্তু প্রশ্নকারী তো আলাদা করে প্রশ্ন করবেন।’

মঞ্জুরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রশ্ন ভর্তি পরীক্ষায় দেওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মনে ভীতি কাজ করবে। আগামীতে তারা বিসিএসের সব প্রশ্নপত্র পড়া শুরু করবেন। যারা প্রশ্ন করেন ও মডারেশন করেন তাদের আরও ভেবে দেখার প্রয়োজন ছিল।’

সাকিব নামের আরেক পরীক্ষার্থী বাংলা ট্রিবউনকে বলেন, ‘সিলেবাস অনুযায়ী তেমন কোনও প্রশ্ন করা হয়নি। কবিতা, গল্প, বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলনসহ অনেক বিষয় এড়িয়ে গিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় এ ধরনের প্রশ্ন হওয়া কতোটা যৌক্তিক, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রশ্ন রাখলাম।’

ফয়সাল কবির নামে একটি অভিভাবক বলেন, ‘আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। ঢাবি’র ইতিহাসে সবচেয়ে বাজে প্রশ্ন এটি। বিসিএস-এর প্রশ্নই যদি ভর্তি পরীক্ষায় দেওয়া হবে, তাহলে পরীক্ষা কমিটির দরকার কী?’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল প্রশ্নপত্র মিলে যাওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘পরীক্ষা কমিটিতে যারা আছেন, তারা নিজ হাতে প্রশ্ন করেছেন। প্রশ্নের মিল থাকার কোনও কারণই নেই।’ এরপর ব্যস্ত আছেন বলে তিনি ফোন রেখে দেন।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকী বলেন, ‘‘এটা দোষের কিছু নয়। তবুও কেনও এমন হলো, আমি খোঁজ নিয়ে দেখবো।’

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *