বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

রামপাল প্রকল্প: বিশেষায়িত নৌযানে কয়লা পরিবহন রুখবে ক্ষতি

_sundarban_rampaরামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানী কয়লা পরিবহন করা হবে সুন্দরবনের ভেতরের পশুর নদী দিয়ে। সরকারি প্রতিষ্ঠান CEGIS এর পরিবেশগত সমীক্ষা প্রতিবেদন বলছে, এর ফলে সুন্দরবনের পানি এবং ইকো সিস্টেমে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে।

ইউনেস্কোর ২০১৪ সালের প্রতিবেদনেও একই কথা বলা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নকারী মৈত্রী পাওয়ার কোম্পানির দাবি, বিশেষায়িত নৌ-যানে কয়লা পরিবহনে ক্ষতিকর প্রভাব ঠেকানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সর্বোচ্চ প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা নিলেও, তা সম্ভব নয়।

পশুর নদীর তীরঘেঁষা দক্ষিণের জনপদ রামপাল। যেখানে নির্মিত হচ্ছে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। এখান থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরত্বে শুরু সুন্দরবন।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য আমদানী করা কয়লা কোন পথে এবং কীভাবে পরিবহন করা হবে তা নিয়ে পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা করেছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ এবং ভৌগলিক তথ্য প্রদানকারী সংস্থা সিইজিআইএস। তারা সিবসা, পশুর এবং বলেশ্বর নদীপথের সম্ভাব্যতা যাচাই করে পশুর নদীর চ্যানেল ব্যবহারের সুপারিশ করে। এই পথে বঙ্গোপসাগর হয়ে বড়ো জাহাজ এসে সুন্দরবনের বিশ্ব ঐতিহ্য সংলগ্ন আক্রাম পয়েন্ট অথবা মাঝহার পয়েন্টে থামবে। তারপর ছোট ছোট নৌযানে সুন্দরবনের ভেতর দিয়ে পশুর নদী পথে কয়লা নেয়া হবে রামপালে।

সংস্থাটি বলছে এই পথের ৮০ ভাগ পড়েছে সুন্দরবনের ভেতরে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৩ হাজার টন কয়লা পরিবহন করা হবে। এই নৌ পথে জাহাজ চলাচল করে মংলা বন্দরেও। কয়লা পরিবহনের কথা মাথায় রাখলে ভবিষ্যতে এই চলাচল বাড়বে দুই গুনেরও বেশি।

সিইজিআইএস মনে করছে, এইসব জাহাজ চলাচলে দূষণ ঘটবে নদীর। নৌ-যানের ভেঁপুর শব্দ আর আলোয় বিরক্ত হবে বনের পশুপাখি। ড্রেজিং এবং অতিরিক্ত ঢেউয়ের কারণে পানির নীচের জীব-বৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়বে। সবমিলিয়ে ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে সুন্দরবনের ইকো-সিস্টেমে। এইসব থেকে পরিত্রান পেতে ১৩ দফা ব্যবস্থা নিতে বলেছে সিইআইজিএস।

বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী কোম্পানী বলছে, আন্তর্জাতিক নীতিমালা এবং এই সমীক্ষার সুপারিশগুলো অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে।

পশুর নদীর মোহনা দিয়ে যে পথে কয়লা আনা হবে, তার দুই পাশেই সুন্দরবনের ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যের অবস্থান। ২০১৪ সালে, এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলছে, কয়লা পরিবহনের ফলে, এখানে জীব বৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

একই অভিমত বিশেষজ্ঞদেরও। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের এই শিক্ষক বলছেন, যেসব ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে তাতে ক্ষতি কমানো সম্ভব নাও হতে পারে।

অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে ইস্তাম্বুলে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট নিয়ে সম্মেলনে, সিদ্ধান্ত হবে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে কী অবস্থান নেবে ইউনেস্কো।

আরও পড়ুন