বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের ক্রসফায়ারে দেয়ার দাবি ফিরোজ রশীদের

নারী ও শিশু নির্যাতনকারীদের নরপশু আখ্যায়িত করে তাদের বিচারের আওতায় না এনে ক্রসফায়ার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ।

মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি সাম্প্রতিক নারী, কিশোর-কিশোরী ও শিশু নির্যাতনের তথ্য তুলে ধরে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারের কাছে তিনি এ দাবি জানান।

বিভিন্ন স্থানে নারী ও শিশুদের প্রতি নিষ্ঠুরতার নানা প্রসঙ্গ টেনে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘শিশু নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপ, অপহরণ, স্কুল শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত ও হত্যা করা হচ্ছে, তা অকল্পনীয়। প্রতিদিন এসব চিত্র দেখতে হচ্ছে গণমাধ্যমে। স্বাধীন দেশে এটা কাম্য হতে পারে না।’

জঙ্গি ও সন্ত্রাস দমনে সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করে ফিরোজ রশীদ বলেন, ‘জঙ্গিদের দমনে সরকার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে। সরকার জঙ্গি দমনে সফল হয়েছে। গোটা দেশের মানুষ স্বস্তিতে আছে। এ জন্যে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। জঙ্গিবাদ যেভাবে উত্থান হয়েছিল, তা দমনে সরকারের পদক্ষেপে দেশ এখন স্বস্তিতে রয়েছে।’

এ সময় ফিরোজ রশীদ প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘জঙ্গিদের ধরে নিয়ে গুলি করতে পারলে নারী-শিশু নির্যতনকারীদের কেন এভাবে গুলি করে মারা যাবে না?  দেশকে, সমাজকে, সভ্যতাকে বাঁচাতে হলে ওই নিষ্ঠুর আচরণ করতেই হবে সরকারকে। যে ধরা পড়লো তাকে কেন আজকে আইনের আওতায় দেব? আজ পর্যন্ত চার্জশিট হয়নি, ডাক্তারের সার্টিফিকেট আসেনি। আমরা এ সংসদে বলতে চাই, এ নরপশুদের আইনের আশ্রয়ে নয়; তাদের একমাত্র শাস্তি ক্রসফায়ারে গুলি করে মেরে ফেলা। একজন, দুজনকে মেরে ফেলুন; তাদের মারতেই হবে। ১৬ কোটি মানুষকে বাঁচাতে হলে, নারী সমাজকে বাঁচাতে হলে এটা করতে হবে। তাদের যদি না মারা হয় একজনও বাঁচবে না। সেদিন যদি উইলস লিটলস ফ্লাওয়ারের ছাত্রী হত্যাকারীকে পুলিশ মেরে ফেলত, তাহলে মেয়েটি মারা যেত না।’

এ সময় ফিরোজ রশীদ আরও বলেন, ‘সবাইকে আইনের কাঠগড়ায় যদি দাঁড় করান, আর সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত যদি নিয়ে যান, তাহলে একজনও বিচার দেখে যেতে পারবে না। ভিকটিম পরিবার উকিল-মোক্তারের পেছনে ঘুরতে ঘুরতে ক্লান্ত হয়ে যাবে।’ তিনি জানান, ‘তাদের শক্ত হাতে দমন করতে হবে। এসব বাজে লোকদের বাঁচার কোনও অধিকার নেই। শিশু-সন্তানদের রাস্তাঘাটে যেন চলতে পারে, সে ব্যবস্থা করতে হবে।’

পরে সংসদ অধিবেশনের সভাপতি ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, আপনি যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে আমরা দ্বিমত পোষণ করি না। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সুযোগ্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জঙ্গি দমনে সক্ষম হয়েছেন। আপনি যে ক্রস ফায়ারের কথা বলছেন, আপনার পেছনে যিনি আছেন ‍তিমি মানবাধিকারের প্রশ্ন তুলবেন। সরকার যাবে কোথায়? তবে আপনাকে জানাতে চাই  ‘দ্য গভর্নমেন্ট ডাস নট বিলিভ ইন ক্রসফায়ার। আমরা  ক্রসফায়ারে বিশ্বাস করি না।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে সম্ভব হলে দুয়েকদিনের মধ্যে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেওয়ার অনুরোধ করেন তিনি।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বলেন, ‘সংসদ সদস্য পয়েন্ট অব অর্ডারে যে কথা উত্থাপন করেছেন, সত্যি এ ধরনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। আমরা অস্বীকার করছি না। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ নিয়েছি।’ তিনি জানান, ‘উইলস লিটলস ফ্লাওয়ারের ছাত্রী হত্যকারীদের ধরা হয়েছে। আগামীতে সব বিষয় নিয়ে ৩০০ ধারায় বিবৃতি দেওয়া হবে।’

আরও পড়ুন