যশোরে শারদীয় দুর্গোৎসবে মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তায় গঠিত কমিটিতে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম যুবকরা কাজ করবে। এলাকার মুসলিম যুবকরা এসব কমিটিতে স্বেচ্ছায় নাম অন্তর্ভুক্ত করছেন।
যশোরে এ বছর ৬২৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। মণ্ডপগুলোতে এখন চলছে প্রতিমা গড়া ও সাজসজ্জার কাজ। সন্ত্রাস ও নাশকতার কথা মাথায় রেখে মণ্ডপগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছেন জেলা পুলিশ প্রশাসন। মণ্ডপগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয়ভাবে গঠিত কমিটিতে হিন্দুদের পাশাপাশি মুসলিম যুবকদের অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এছাড়া মণ্ডপের নিরাপত্তায় আনসার ভিডিপি ও পুলিশের পাশাপাশি র্যাবের নিয়মিত টহল থাকবে।
ইতিমধ্যে এসব বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসন, পুলিশ সুপার ও জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতারা দফায় দফায় বৈঠক করেছেন।
জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক দীপংকর দাস রতন প্রশাসনের পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘যশোর সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির জেলা। এখানে অতীতের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এ বছরও সাড়ম্বরে শারদীয় দুর্গোৎসব পালিত হবে। হিন্দু-মুসলিম মিলিতভাবে এই উৎসবকে নির্বিঘ্নে করতে কাজ করছে মণ্ডপে মণ্ডপে।’
যশোর জেলার আটটি উপজেলায় এ বছর ৬২৯টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে বলে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা যোগেশ চন্দ্র সরকার জানান। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৩৫টি, কেশবপুরে ৮৯টি, চৌগাছায় ৪৮টি, শার্শায় ২৬টি, ঝিকরগাছায় ৪৭টি, অভয়নগরে ১১৭টি, মণিরামপুরে ৮৪টি ও অভয়নগরে ৮৩টি মণ্ডপে এ বছর দুর্গা প্রতিমা স্থাপন করা হচ্ছে। বর্তমানে এসব মণ্ডপের সাজসজ্জা, প্রতিমা গড়াসহ দুর্গাপূজার প্রাথমিক আয়োজনের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আগামী ৭ অক্টোবর মন্দিরে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে শুরু হবে পূজার আনুষ্ঠানিকতা। ৮ অক্টোবর কুমারী পূজা ও ১১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর দিন প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সব চেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের।
এদিকে গত বছর জেলার আটটি উপজেলায় ৬৩৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হলেও এ বছর জলাবদ্ধতার কারণে জেলার মণিরামপুর, অভয়নগর ও কেশবপুরের বেশ কিছু এলাকায় দুর্গোৎসব আয়োজন সম্ভব হচ্ছে না।
পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান বলেন, ‘মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ভিডিপি সদস্যদের সঙ্গে পোশাক ও অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যরা সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। টহলে থাকবেন র্যাব সদস্যরা। এছাড়া স্থানীয়ভাবে মণ্ডপ রক্ষণাবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার স্বার্থে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।’
জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘এ বছর জেলার প্রতিটি মণ্ডপে সরকারের তরফ থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। জলাবদ্ধ এলাকার মণ্ডপগুলোর প্রতি বিশেষ সুনজর দেওয়া হচ্ছে। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্নে করতে চেষ্টার কোনো ত্রুটি নেই।’


