বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিতর্কিত সেই ইউএনও এবার শুধুই প্রত্যাহার

বিতর্কিত সেই ঘুষখোর ইউএনও এবার শুধুই প্রত্যাহারএর আগে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ খাওয়ায় ইনক্রিমেন্ট বন্ধ করে তাকে বদলী করা হয়েছিল। এবার তাকে শুধুই প্রত্যাহারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলো।

সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় সুনামগঞ্জের শাল্লার ইউএনও আসিফ বিন ইকরামকে শাল্লা থেকে প্রত্যাহার পূর্বক সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার অফিসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার বিকাল ৫ টায় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার মো. জামাল উদ্দিন আহমদ তাকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়ে বিভাগীয় কমিশনার অফিসে সংযুক্ত করেন।

গত রোববার এই ইউএনও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে স্থানীয় এক সংবাদকর্মীকে নিজ হাতে পিটিয়েছেন।

এই ইউএনও এর আগে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউএনও থাকাকালে একজন পাথর খেকোর কাছ থেকে নিজের স্ত্রী’র ব্যাংক হিসাবে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করার ঘটনায় সুনামগঞ্জের প্রত্যন্ত উপজেলা শাল্লায় বদলী হয়েছিলেন। এই অপরাধে ২ বছর তাঁর ইক্রিমেন্টও বন্ধ হয়।

জেলার শাল্লায় এসে নানা ঘটনা সৃষ্টি করে বিতর্কিত হয়ে পড়েন এই ইউএনও। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ বিস্তর। রোববার স্থানীয় এক সাংবাদিককে নিজ হাতে পেটান তিনি। এ ঘটনায় সুনামগঞ্জ জেলা সদরে জেলার ১১ উপজেলার গণমাধ্যমকর্মীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা করেন। পরে তাকে শাল্লা থেকে প্রত্যাহার করার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর নিকট স্মারকলিপিও প্রদান করেন সাংবাদিকরা। স্মারকলিপি প্রদানের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই বিতর্কিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরামকে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অফিসে প্রত্যাহার করা হয়।

২ বছর আগে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলায় ইউএনও হিসাবে যোগদান করেন আসিফ বিন ইকরাম।

জানা যায়, আসিফ বিন ইকরাম ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় যোগ দিয়েছিলেন। উত্তরা ব্যাংকের কোম্পানীগঞ্জ শাখায় পাথর ব্যবসায়ী আবদুল আলী তাঁর মালিকানাধীন ‘মেসার্স শাহ আনোয়ার আলী স্টোন ক্রাশার’-এর নামে থাকা ব্যাংক হিসাব নম্বর (২৬৩৫৫১২) থেকে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বরে ক্রস চেকের মাধ্যমে ২৫ লাখ টাকা এবং ১৭ ডিসেম্বর পাঁচ লাখ টাকা জমা পড়ে তানিয়া তাবাসসুম নামের এক নারীর ব্যাংক হিসাবে (নম্বর ১১১-৪৮২)। তানিয়া ইউএনও আসিফ বিন ইকরামের স্ত্রী বলে ব্যাংকের ওই শাখার কর্মকর্তারা গণমাধ্যম কর্মীদের নিশ্চিত করেছিলেন। নির্বিঘ্নে বোমা মেশিন চালানোর জন্য এই ঘুষ দেওয়া হয়েছিল। ঢাকার একটি দৈনিকসহ স্থানীয় অনেক দৈনিকে এই সংবাদ ছাপা হয়েছিল।

এরপর আসিফ বিন ইকরামকে ২০১৪ সালের ৩ জুলাই  কোম্পানীগঞ্জ  থেকে প্রত্যন্ত জনপদ সুনামগঞ্জের শাল্লায় বদলি করা হয়।

শাল্লায় যোগদানের পর থেকেই গণমাধ্যম কর্মী দেখলেই তিনি ক্ষেপে উঠতেন এবং প্রায়ই বলেন,‘সাংবাদিকদের গুলি করে মারতে হবে’।

গত জুলাই মাসে একদিন উপজেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় তিনি বলে ওঠেন-‘সাংবাদিকদের গুলি করা প্রয়োজন’।

রোববার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনের সড়কে তিনি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালান। এসময় বকুল আহমদ তালুকদার নামের একজন গণমাধ্যমকর্মীর একটি টঙ দোকান (ছোট ভ্রাম্যমাণ দোকান) উচ্ছেদ করেন। অভিযানের এক পর্যায়ে দোকানে থাকা পেট্রোল ঢেলে দোকানে আগুনও দেওয়া হয়।
এই ইউএনও গত এপ্রিল মাসে কহিনুর বেগম নামের এক মহিলাকে নিজ কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে ছিলেন।

সম্প্রতি. উপজেলা পরিষদের প্রায় ৩ লাখ টাকার গাছ কেটে নিজের তত্বাবধানে থাকা পুকুরে কাঁটা হিসাবে ব্যবহারের জন্য ফেলে দেন তিনি।

হাওর-বাওরের উপজেলা শাল্লা সদরের একমাত্র পুকুরে ভাসমান সবজী চাষের অনুমতি দিয়ে তিনি পুকুরটি ব্যবহারের অনুপযোগী করেন।

গত এক বছরে শাল্লার ‘চোরের গাঁও’ হিসাবে পরিচিত কামারগাঁও গ্রামের পাশে দুই দফায় পুকুর করার নামে তিনি প্রায় ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দিলেও ওখানে কোনও পুকুর হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁর কার্যালয়ে এবং উপজেলা গণমিলনায়তনে প্রায়ই এক সভায় একাধিক ব্যানার টানিয়ে ছবি উঠিয়ে প্রোগ্রাম হয়েছে,দেখিয়ে সরকারি-বেসরকারি নানা প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করেন।

অবশ্য. উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ বিন ইকরাম গত মঙ্গলবার বলেছিলেন,‘ভ্রাম্যমাণ আদালতে ছবি তুলতে আমি কাউকে নিষেধ দেইনি। সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করে ওখানে অবৈধ তেলের ব্যবসা করা হতো। এজন্য উচ্ছেদ করা হয়েছে। কহিনুর বেগম বিভিন্ন অফিসে গিয়ে ব্ল্যাক মেইল করতেন এবং টাকা চাইতেন। প্রমাণ সাপেক্ষে তাকে কারাদণ্ড দিয়েছি আমি। উপজেলা পরিষদের গাছ নয়, গাছের ডাল কেটে বিক্রি করে এই টাকা দিয়ে মানুষের ব্যবহারের পুকুর পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। চোরেরগাঁও কামারগাঁওয়ে প্রথমে ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা পুকুর করার জন্য দেওয়া হয়েছিল। পরে আবার কিছু বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এরা অর্ধেক কাজ করে কাজ শেষ করেনি। আমি এক সভায় একাধিক ব্যানার কখনোই টাঙাইনি’।

সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কামরুজ্জামান বলেন,‘আমার জানা মতে তাকে বুধবার ২৮ সেপ্টেম্বর বিকালে শাল্লা থেকে বদলী করে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার অফিসে যুক্ত করা হয়েছে’।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *