রামপালে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হওয়ার ধারণা অমূলক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ ঘরানার পেশাজীবী ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে গঠিত নতুন সংগঠন প্রগতিশীল বাংলাদেশ। তারা মনে করে, এই বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সুন্দরবন নিয়ে প্রভাবিত হয়ে ইউনেসকো এ প্রতিবেদন দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সংগঠনের সভাপতি মো. কবীর আহমেদ ভূঞা বলেন, ইউনেসকোর প্রতিবেদন ভালোভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। তারা নিজেরাই, না কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এমন প্রতিবেদন দিয়েছে, তা দেখতে হবে। তিনি আরও বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে স্থান নির্বাচন যৌক্তিক। এ কারণে সুন্দরবনের ক্ষতি হবে, সেটা অমূলক ধারণা।
সুন্দরবনের পাশে রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করার জন্য বাংলাদেশের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের বিজ্ঞান, শিক্ষা ও সংস্কৃতি-বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ইউনেসকো। এই বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মিত হলে তাতে সুন্দরবনের অপূরণীয় ক্ষতি হবে উল্লেখ করে প্রকল্পটি নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া রামপাল থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির ব্যানারেও এ নিয়ে আন্দোলন চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক কাজী বায়েজিদ কবীর বলেন, ইউনেসকোর যে দল এসেছিল, তারা অত্যন্ত কম সময় ছিল। এই সময়ে একটি গ্রহণযোগ্য প্রতিবেদন প্রণয়ন করা সম্ভব নয়।
বুয়েটের সাবেক সহ-উপাচার্য হাবিবুর রহমান বলেন, রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কী কী দূষণ হতে পারে, সেটা যেহেতু জানা, সুতরাং সেগুলোর কারিগরি সমাধানও করা যাবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপিত লিখিত বক্তব্যে রামপালে বিদ্যুৎকেন্দ্রের পক্ষের বিভিন্ন ধরনের যুক্তি তুলে ধরা হয়।
‘রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্র শীর্ষক’ এই সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সহ-উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, আওয়ামী লীগ ঘরানার ব্যবসায়ী নাগিবুল ইসলাম, আবাসন ব্যবসায়ী লিয়াকত আলী ভূঁইয়াসহ আরও কয়েক ব্যবসায়ী।


