দেশের দশ কোটি ভোটারের মধ্যে নয় কোটি নাগরিকের হাতে স্মার্ট জাতীয় পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এই বিতরণ কাজেই ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ কোটি টাকা।
এর মধ্যে অপারেটরদের কার্ড প্রতি ৫ টাকা করে সম্মানী হিসেবে ৪৫ কোটি টাকা, প্রচারে ১০ কোটি এবং বিতরণকারীদের যানবাহন ব্যয় ১০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। এছাড়া এক বছরের মধ্যে এ বিতরণ কাজে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে অন্তত আরও ১১টি খাতে বাকি অর্থ ব্যয় হবে বলে জানা গেছে।
জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুজ্জামান মো. সালেহ উদ্দিন জানান, ২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশজুড়ে স্মার্টকার্ড বিতরণের লক্ষ্যে কমিশনের কাছে কর্মপরিকল্পনা ও সম্ভাব্য ব্যয় উপস্থাপন করা হয়েছে।
আগামী ২ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধনের পর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের এক নম্বর ওয়ার্ডে ৩ থেকে ২২ অক্টোবর স্মার্টকার্ড বিতরণ কার্যক্রম চলবে। আর দক্ষিণে রমনা থানা নির্বাচনী এলাকার ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডে ৩ থেকে ২৭ অক্টোবর নির্ধারিত বিতরণ কেন্দ্রে বিতরণ চলবে।
নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে যেসব কার্ড বিতরণ হবে না, ভোটারকে নিজ নিজ উপজেলা/থানা নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি দিয়ে এবং লেমিনেটেড কার্ড ফেরত দিয়ে স্মার্টকার্ড সংগ্রহ করতে হবে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি স্মার্টকার্ড তৈরিতে ব্যয় হচ্ছে প্রায় দুই ডলার। প্রতিটি স্মার্টকার্ড বিতরণের জন্য প্রায় ৯ টাকা করে ব্যয় হচ্ছে। প্রথমবার স্মার্টকার্ড বিনামূল্যে বিতরণ করা হলেও পরে যে কোনো ধরনের সংশোধন বা হারানো কার্ড তুলতে গেলে নির্ধারিত হারে ফি দিতে হবে।
স্মার্টকার্ড প্রস্তুত ও বিতরণের লক্ষ্যে ফ্রান্সের অবার্থুর টেকনোলজিস নামে এক সংস্থার সঙ্গে প্রায় ৮০০ কোটি টাকার চুক্তি করে ইসি। ইসি সচিবালয় বাস্তবায়নাধীন ‘আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহেন্সিং এক্সেস টু সার্ভিসেস-আইডিইএ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন মেয়াদ ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।


