বাড়ি থেকে আটক করে ছেড়ে দেওয়ার অাশ্বাস দিয়ে নগদ টাকা নিয়েও ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তাকে হত্যা করার অভিযোগ করেছে তার পরিবার…
যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক প্রায় ১০টি মামলার আসামি শাহ আলম নিয়নকে (৩৫) মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে গ্রেফতার করে ‘ছেড়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে টাকা আদায়ের’ পর, কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধ’র নামে বিএনপির অঙ্গ সংগঠনের এই নেতাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তার পরিবারের।
শুক্রবার গভীর রাতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে বন্দুকযুদ্ধের সময় এই নেতা নিহত হন বলে সাভার মডেল খানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে শুক্রবার নিহত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের এলাকায় তাদের নিজ বাড়ি থেকে যুবদলের এ নেতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তাদের পরিবারের কাছ থেকে তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারও নিয়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তার পরিবার।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার গভীর রাতে সাভারে বিরুলিয়া এলাকার অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান শুরু করে। এসময় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সামনে পুলিশের সঙ্গে বন্ধুক যুদ্ধে শাহআলম নয়ন নামের এক যুবক নিহত হয়। পরে তার মৃতদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহত যুবদল নেতার মা রোকেয়া বেগম অভিযোগ করে বলেন, সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক (এস আই) তন্ময় ও এএসআই আহসান শুক্রবার রাজধানীর মোহাম্মপুরে তাদের নিজ বাড়ি থেকে অভিযান চালিয়ে তার ছেলেকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে নগদ ছয় লাখ টাকা ও কয়েক ভরি স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসে পুলিশের কর্মকর্তারা।
এছাড়াও বিএনপি ওই নেতাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাভারের হেমায়েতপুর এলাকায় তাদের বাসা থেকেও পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তারা নগদ আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতার মা আরও অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাতে সাভার মডেল থানায় তিনি তার ছেলের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে পুলিশ নয়নের সঙ্গে দেখা করতে দেয়নি।
নিহতের মা জানান, এর কিছু সময় পরই নয়নের মুখে কালো কাপড় দিয়ে বেঁধে তাকে নিয়ে থানা থেকে বের হয়ে যায় পুলিশ।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম কামরুজ্জামান টাকা আদায়সহ অন্যান্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পুলিশের অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের সময় বন্ধুকযুদ্ধে শাহআলম নয়ন নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। তার বিরুদ্ধে সাভার থানায় গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা এবং পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাসহ অস্ত্র মামলা, মাদক ব্যবসা, অপহরণ ও হত্যার মোট ১০টি মামলা রয়েছে।
এছাড়াও মানিকগঞ্জে একটি অস্ত্র মামলায় যাবত জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও বলে তিনি জানান। নিহতের লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।


