বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করল ছাত্রলীগ নেতা (ভিডিও সহ)

কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করল শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতা (2)সিলেট মহিলা কলেজের ডিগ্রী ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিসকে (২২) এমসি কলেজে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়েছে শাবিপ্রবি ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজন। এ সময় স্থানীয়রা হামলাকারী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগের শাবিপ্রবি শাখার সহ-সম্পাদক বদরুল ইসলামকে (২২) উত্তম মাধ্যম দিয়ে পুলিশে সোর্পদ করেছে।

সোমবার ৩ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় এমসি কলেজে এ হামলার ঘটে।

আটক হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা বদরুল সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার চেচান গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে। তাকে আহত অবস্থায় হাসপাতালের ৩য় তলার ১১ নং ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

হামলায় আহত সিলেট মহিলা কলেজের ডিগ্রী (২য়) বর্ষের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস (২২)।

এদিকে রাত ১টায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আহত নার্গিসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ওসমানী হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শে এ্যাম্বুলেন্স সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছেন তার পরিবার। সোমবার রাত ১টার (৩ অক্টোবর) ওসমানী হাসপাতাল থেকে তাকে নিয়ে রওয়ানা হন। বিষয়টি রাত ১টায় ফোন করে নিশ্চিত করেছেন খাদিজার চাচা সৈয়দ মুমিন।

তিনি জানান, হাসপাতালে খাদিজার শরীরে অস্ত্রপাচার করার পর তার শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়। অপারেশন থিয়েটারে খাদিজার শরীরে ১০ ব্যাগ রক্ত দেয়া হয়েছিলো। অপারেশন পর হঠাৎ করেই আবার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া প্রয়োজন। তাই তাদের পরামর্শে তাকে ঢাকার পান্থপথস্থ স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। খাদিজার সাথে তার ভাই,মা,মামা ও চাচা রয়েছেন।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্তি উপ কমিশনার (দক্ষিণ) জেদান আল মুসা জানান, গুরুতর আহত মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার নার্গিস (২২), তিনি সিলেট সদর উপজেলার আউসা গ্রামের মাসুদ মিয়ার কন্যা।

জানা যায়, পরীক্ষা কেন্দ্র সিলেট এমসি কলেজে হওয়ায় সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে পরীক্ষা কেন্দ্রে আসেন তিনি। পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বিকেল সাড়ে ৫টায় বাসায় যাওয়ার জন্য হল থেকে বের হয়ে এমসি কলেজের পুকুর পার হয়ে বের হচ্ছিলেন। এসময় পথিমধ্যে ৩জন যুবক তার পথ আগলে রাখে। যুবকদের মধ্যে একজন ধারালো চাপাতি দিয়ে তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করলে তিনি অজ্ঞান হয়ে মাঠিতে লুটিয়ে পড়েন। খবর পেয়ে টহলরত পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

পুলিশের সূত্রে জানা যায়, মহিলা কলেজ শিক্ষার্থী নার্গিস ও শাবি শিক্ষার্থীর মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেম ছিলো। প্রেম সংকান্ত ঘটনার জেরধরেই এ হামলার ঘটনা ঘটেছে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জরুরী বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা: মনোজ চৌধুরী বলেন, কলেজ শিক্ষার্থীর শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। তাকে হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে পাঠানো হয়েছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা প্রায় দুভাগ হয়ে গেছে।

হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতা:
হামলাকারী শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বদরুল ইসলাম ছাত্রলীগ নেতা। সে শাবি ছাত্রলীগ শাখার সহ-সম্পাদক। বদরুল ইসলাম শাবির অর্থনীতি বিভাগের ৩য় বর্ষের ছাত্র।

শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জীবন চক্রবর্তী পার্থ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ছাত্রলীগ কখনো এ ধরণের কর্মকান্ড সমর্থন করে না। তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শাবি ছাত্রলীগের সভাপতি পার্থ আরো জানান, ২০১১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবেরর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছিল বদরুল ইসলাম। তারপর থেকে তার মানষিক সমস্যা দেখা দিয়েছিল। সে শাবির ২০০৮-২০০৯ বর্ষের শিক্ষার্থী । শিবিরের হামলার শিকার হওয়ায় শাবি ছাত্রলীগ তাকে সহ-সম্পাদকের পদ দিয়েছিল।

বদরুলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনী ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশের প্রতি আহবান জানিয়েছে শাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমরান খাঁন বলেন, অন্যায়কারীদেরকে কোন সময় ছাত্রলীগ প্রশ্রয় দেয় না। অবিলম্বে বদরুলের বিরুদ্ধে নেয়া শাবি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে নেয়া হবে সাংগঠনিক ব্যবস্থা।

মঙ্গলবার বিক্ষোভ:
এদিকে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নার্গিনের উপর হামলার প্রতিবাদে এমসি কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে।

 

https://youtu.be/CeESKBqkj-w

আরও পড়ুন