ঢাকাবাসীর জন্য মেট্রো রেল ব্যবস্থা চালু করলেই হবে না, বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় এই গণপরিবহন সেবা ব্যবহারের নিয়মও শহরের মানুষকে শেখাতে হবে বলে মনে করেন দিল্লি মেট্রো রেল করপোরেশনের (ডিএমআরসি) কর্মকর্তা নিখিল আনন্দ গিরি।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আমন্ত্রণে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া সাংবাদিকদের দিল্লি মেট্রো রেল নির্মাণ ও এর পরবর্তী অভিজ্ঞতা বিনিময়ে এমন পরামর্শ এসেছে ডিএমআরসির করপোরেট কমিউনিকেশনসের সহকারী ব্যবস্থাপক নিখিলের কাছ থেকে।
প্রকল্প বাস্তবায়নের কঠিন কাজ শেষে মেট্রো রেল ব্যবহারের নিয়মকানুন শেখাতেও ডিএমআরসিকে নানা পদক্ষেপ নিতে হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, “দুর্গম এলাকায় পথনাটকের মাধ্যমে আমাদের গ্রামবাসীকে বোঝাতে হয়েছে এবং কীভাবে মেট্রো ব্যবহার করতে হবে ও এই সেবা নেওয়ার সময় আচরণ কেমন হবে সেটা নতুন প্রজন্মকে শেখাতে অনেক স্কুলে পাপেট শো করেছি।”
বাংলাদেশ সরকার এবছর রাজধানী ঢাকায় দেশের প্রথম মেট্রো রেল নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে। জাইকার সহায়তায় নির্মিত এ মেট্রো রেল ২০১৯ সালে চালুর আশা করা হচ্ছে।
১৯৯৮ সালে দিল্লিতে মেট্রো রেলের নির্মাণ কাজ শুরু হয়। চার বছর পর ২০০২ এর ডিসেম্বরে এটি জনগণের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
দিল্লির মেট্রো সার্ভিসকে এখন বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল মেট্রো নেটওয়ার্ক হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে।
প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২ কোটি ৭০ লাখ যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়া এ নেটওয়ার্কের তৃতীয় পর্যায়ের সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। জাপানের সহায়তায় এ সম্প্রসারণ কাজ শেষ হলে দিল্লি মেট্রোর আওতায় চলে আসবে ৩৫০ কিলোমিটার এলাকা; আগে যা ছিল ২১৩ কিলোমিটার।
নিখিল বলেন, “অনেকের জন্যই এটি নতুন; তারা এই আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় গণপরিবহন ব্যবস্থা সম্পর্কে জানত না।
মেট্রো রেল দিল্লির সমাজ ও পরিবেশে আমূল পরিবর্তন এনে দিয়েছে; রাজধানীবাসীকে দিয়েছে দারুণ সব সুবিধা। মেট্রোর কারণে দিনে অন্তত চার লাখ গাড়ি রাস্তায় নামছে না বলে দাবি ডিএমআরসির কর্মকর্তাদের।
বছরে জ্বালানির ব্যবহার কমেছে অন্তত ৫ লাখ ৭৭ হাজার ১৪৮ টন; যার কারণে একসময় দূষণের শহর হিসেবে খ্যাত দিল্লিতে বায়ুদূষণের হারও নেমে এসেছে অনেকাংশে।
শহরে যানবাহনের সংখ্যা কমায় দুর্ঘটনার হারও নেমে এসেছে বলে জানিয়ে বলেন, মেট্রোর কারণে ২০১৪ সালে শহরটিতে দুর্ঘটনার সংখ্যা ছিল মাত্র ১২৫টি।
এখন নানা সুবিধার দেখা মিললেও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় বিভিন্ন বিভাগের মধ্যে সমন্বয় আনাটাই বড় চ্যালেঞ্জ ছিল বলে জানালেন নিখিল।
“আমরা ওই চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পেরেছি। এত বড় একটি নির্মাণকাজ সবসময়ই বেশ কঠিন; তার উপর এটি ছিল জনবহুল ও কর্মচঞ্চল একটি শহরে। নির্মাণের সময় বিভিন্ন কারণে বিভিন্ন বিভাগের অনুমতি লাগত।
উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, “একটি গাছ কাটতেও সরকারি কোনো বিভাগের অনুমতি নিতে হবে। আমরা সেসব চ্যালেঞ্জ উৎরাতে পেরেছি, কেননা মানুষ এই প্রকল্পের পক্ষে ছিল; এটি বাস্তবায়নে পৌর কর্তৃপক্ষেরও অঙ্গীকার ছিল।”
মতবিনিময়ে নিখিল আনন্দ গিরি দিল্লি মেট্রো রেলের বিভিন্ন ছবিও দেখান, যার কোনো কোনোটিতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকেও মেট্রো রেল ব্যবহার করতে দেখা গেছে।


