জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা খাদিজা বেগমকে পেছনে রেখে সেলফি তোলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন ক্ষমতাসীন দলের তিন নেত্রীর একজন। যুব মহিলা লীগের যুগ্ম সম্পাদক কোহেলি কুদ্দুস আজ বৃহস্পতিবার ওই ঘটনার জন্য ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করেন।
ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে কোহেলি কুদ্দুস লিখেছেন, ‘অপু দিদি (যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সাংসদ অপু উকিল), তুহিনসহ (সাংসদ এবং ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবিনা আক্তার তুহিন) আমার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আসলে খাদিজাকে দেখতে গিয়ে তাঁর অবস্থার কিছু তথ্য সবাইকে জানানোর অংশ হিসেবে যোগাযোগ মাধ্যমে ছবিটি পোস্ট করা হয়েছিল।
তবে ছবিটা দেখে অনেকেই ভুল বার্তা পেয়েছেন। অনেকে ছবিটি দেখে মর্মাহত হয়েছে…আমি খুবই দুঃখিত! সবাই বিষয়টা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। দয়া করে ভুল ব্যাখা দেবেন না। আমাদের উদ্দেশ্য আসলে সে রকম কিছু ছিল না। আমরা চেষ্টা করেছিলাম মানুষকে তার সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে জানানোর।’
কোহেলি কুদ্দুস লিখেছেন, ‘কারণ, খাদিজাকে নিয়ে নানা জায়গা থেকে গুজব ছড়াতে থাকে—খাদিজা মারা গেছেন এই বলে। কিন্তু মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অসীম করুণাময়ের কৃপায় বোনটি এখনো আমাদের আশার আলো দেখিয়ে বেঁচে আছে। সৃষ্টিকর্তা বোনটিকে সুস্থ করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিক—এটাই একমাত্র প্রার্থনা। আমরা মানবতার পক্ষে আর দোষী-সন্ত্রাসীদের বিপক্ষে।’
সিলেটে ছাত্রলীগ নেতা বদরুল আলমের নৃশংস হামলার শিকার হয়ে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খাদিজা বেগম। তাঁকে দেখতে গিয়ে তোলা ছবি (সেলফি) গতকাল বুধবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে নিজের ফেসবুক ওয়ালে পোস্ট করেন সাংসদ সাবিনা আক্তার তুহিন। সঙ্গে ছিলেন অপু উকিল ও কোহেলি কুদ্দুস। হাসপাতালের আইসিইউর মতো স্পর্শকাতর জায়গায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা এক নারীর পাশে সরকারদলীয় নারীনেত্রীদের এমন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। খাদিজার ওপর নৃশংসতায় মানুষ তাঁদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন, ভর্ৎসনা করেছেন।
গতকাল রাত সোয়া ১২টার দিকে সাবিনা আক্তার তুহিন এ ব্যাপারে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ‘কালকে খাদিজা নামের মেয়েটা মারা গেছে বলে যে তথ্য বের হয়েছে, আমরা দেখাতে চেয়েছি মেয়েটা বেঁচে আছে, এ জন্যই ছবিটা তোলা। স্ট্যাটাসে বদরুলের ফাঁসি চেয়ে স্ট্যাটাসটা দেওয়া হয়েছে। নারী হিসেবে মেয়েটির পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার নিয়ে তাঁর পাশে আছি, এটা বোঝানোর জন্য তাঁর ব্যাপারে স্ট্যাটাস দেওয়া। ভালো মন-মানসিকতা নিয়ে তাঁর পাশে একজন নারী হিসেবে পশুর বিচার চেয়ে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের নামধারী যে এখন ছাত্রলীগ করে না, আমরা তাঁর পক্ষে না, আমরা নির্যাতিতের পক্ষে। এ ছবির অর্থ কেউ ভিন্নভাবে নিতে পারে।…আমরা সকল নির্যাতিত নারীর পক্ষে।


