ঢাকার মহাখালীতে ওয়াজি আহমেদ চৌধুরী (৭৬) নামে সাবেক এক সেনা কর্মকর্তা গৃহকর্মীর হাতে খুন হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তার ভাতিজা রেশাদ আহমেদ চৌধুরী বৃহস্পতিবার ভোর রাতে কাফরুল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান উপ-পরিদর্শক মুকুল মিয়া।
ওয়াজি ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের পদ থেকে অবসরে যান। তার দেশের বাড়ি সিলেটের গোলাপগঞ্জে।
ভাতিজা রেশাদ বলেন, “দুইমাস আগে চাচার বাসায় আবদুল্লাহ নামের একটি ছেলে কাজ নেয়। চাচা খুন হওয়ার পর থেকে ওই ছেলের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।”
বাসা থেকে একটি টেলিভিশন, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ খোয়া গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “টাকা পয়সা কত খোয়া গেছে তা এখনো বুঝতে পারছি না।”
স্বজনদের বরাত দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, ওয়াজি আহমেদের ছোট ছেলে ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরী বাক প্রতিবন্ধী। বুধবার সন্ধ্যার পর বাইরে থেকে বাসায় ফিরে বাবাকে অচেতন অবস্থায় পড়ে দেখতে দেখে তিনি সিএমএইচে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আনে পুলিশ।
“লাশের গলায় কালো দাগ ছিল। বুকের বাঁ পাশ আর ডান পায়ের গোড়ালিতে আঘাতের চিহ্ন ছিল,” বলেন উপ পরিদর্শক বাচ্চু।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিকেলের ফরেনসিক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সোহেল মাহমুদ বলেন, “গলায় রশি পেচিয়ে পা বেঁধে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে আলামত পাওয়া গেছে।”
সাবেক সেনা কর্মকর্তা ওয়াজি আহমেদের স্ত্রী আতিয়া চৌধুরী বছর ছয়েক আগে মারা যান। তাদের বড় ছেলে নাবিদ আহমেদ চৌধুরী (৪৪) প্রায় এক দশক ধরে থাকেন আমেরিকায়।
ছোট ছেলে ফুয়াদ আহমেদ চৌধুরী (৪০) ঢাকায় মহাখালী ডিওএইচএসের ৪ নম্বর রোডের বাসায় বাবার সঙ্গে থাকতেন।
ওয়াজি আহমেদের ছোট ভাই এজাজ আহমেদ চৌধুরী ১৯৯৬ সালে সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল হিসেবে অবসরে যান।
তিনি বলেন, “আবদুল্লাহর দেশের বাড়িও সিলেট। একজন পরিচিত লোক তাকে ভাইয়ের বাসায় কাজে দিয়েছিল। ধারণা করছি, সেই আমার ভাইকে হত্যা করেছে।”
ওয়াজি আহমেদকে সিলেটে গ্রামের বাড়িতে দাফন করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে জানান তার স্বজনরা।
পুলিশের মিরপুর জোনের উপ কমিশনার মাসুদ আহমেদ বলেন, “আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে মামলাটির তদন্ত করছি। আশা করছি, দ্রুত অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”


