নামেই কেবল শিশুপার্ক। সাইনবোর্ডের লেখা আর বাস্তবতার মিল কোথায়? এমন প্রশ্ন এখন ওখানে শিশু নিয়ে আসা নতুন দর্শনার্থীদের।
দিন দিন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক শিশু পার্কটি প্রেমিক যুগলদের দখলে যাচ্ছে। ওখানেই গড়ে উঠছে ওদের নিরাপদ ঠাঁই। প্রেমিকযুগল ওখানে এসে অন্তরঙ্গ হচ্ছে। একে অপরকে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছে। খোশগল্প আর আড্ডায় মেতে উঠছে। এমন খোলামেলা দৃশ্য প্রতিনিয়তই।
হররোজ এমন দৃশ্যে স্থানীয় বাসিন্দারা বিব্রত। উঠতি বয়সী তরুণ-তরুণীদের এমন আনা গোনা আর অন্তরঙ্গ হওয়ার দৃশ্য বারণ করার নেই কেউ।
অভিযোগ উঠেছে প্রসাশনের নাকের ডগায় শহরের প্রাণ কেন্দ্রে এমনটি হলেও তারা রয়েছেন উদাসীন। আর এ কারণেই ওরা এখন অনেকটাই বেপরোয়া।
স্থানীয় স্কুল কলেজের ছেলে-মেয়েরা ক্লাসের নাম করে ওখানে আসে। ক্লাস ফাঁকি দিয়েই পার্কটিতে এসে তারা অন্তরঙ্গ হচ্ছে। স্থানটি তাদের জন্য নিরাপদ হওয়ায় প্রতিদিনই বাড়ছে নতুন নতুন জুটি। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থী ছাড়াও ভাড়া খাটা অপরিচিত প্রেমিক প্রেমিকারাও ওখানে আসে। তাদের কাঙ্ক্ষিত এই স্থানটিতে এসে যে যার মতো প্রেমে মত্ত হয়ে মেতে উঠেন বিনোদনে।
স্থানীয়রা জানালেন প্রতিদিনই ওখানে যুবক-যুবতীদের অন্তরঙ্গ হওয়ার দৃশ্য চোখে পড়ে। লজ্জায় দ্রুত এই এলাকা ত্যাগ করেন তারা।
শহরের বনবীথি এলাকার শিশু বিনোদনের এই প্রাণ কেন্দ্রটি অরক্ষিত থাকায় এখন এটি প্রেমিক যুগলদের নিরাপদ অন্তরঙ্গ হওয়ার স্থান। শিশুপার্কটির আশেপাশের বাসিন্দারা প্রতিদিনই এমন কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেও তা প্রতিকারে সংশ্লিষ্ট নানা স্থানে ধরনা দিয়েও কোনো কাজ হয়নি। অন্য উপায়ান্তর না থাকায় এখন এমন দৃশ্য দেখেও তারা চোখ বুজার চেষ্টা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিদিনই সকাল থেকে দুপুর অথবা পড়ন্ত বিকেলে প্রেমিক যুগলরা ওখানে ভিড় করে। পার্ক এলাকায় তেমন গাছ-গাছালি না থাকায় পার্কের ভেতরের পরিত্যক্ত জরাজীর্ণ রেস্ট হাউজটির বারান্দা, দোতলা কিংবা একতলার খালি রুমগুলোই প্রেমিক যুগলদের অন্তরঙ্গ হওয়ার নিরাপদ স্থান। অনেক সময় ওখানে অন্তরঙ্গ হতে এসে বখাটে ও নেশাখোরদের হাতে সর্বস্ব খোয়াতেও হয়েছে অনেক প্রেমিক যুগলকে।
সরজমিনে পার্কটিতে গেলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই তাদের ক্ষোভ প্রকাশ করে অরক্ষিত এই পার্কটির নানা সমস্যার কথা জানান। উঠতি বয়সী ছেলে-মেয়েরা ওখানে একে অপরকে জড়াজড়ি করে যে ভাবে বসে গল্প করে তা দেখে লজ্জায় ওখানে থাকতে মন চায় না তাদের।
কয়েকজন অভিভাবক জানালেন শিশুদের বিনোদনের এই পার্কটিতে এখন চলে যুবক-যুবতীদের অন্তরঙ্গ হওয়ার প্রতিযোগিতা। তারা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, শহরের ইট পাথরের খাঁচায় বন্দি শিশুদের বহু প্রত্যাশিত বিনোদনের এই ছোট্ট আয়োজনটি সংশ্লিষ্টদের উদাসীনতায় এখন এটাকে অশ্লীলতার প্র্যাকটিস পার্ক নাম দেয়াই ভালো। পার্কটির জরাজীর্ণ পরিত্যক্ত রেস্ট হাউজের বারান্দা, দোতলা ও একতলার কয়েকটি খালি কক্ষে অন্তরঙ্গ অবস্থায় কয়েক জোড়া কপোতকপোতীদের দেখা মেলে। সংবাদকর্মী পরিচয় পেয়ে এ সকল কপোতকপতীরা যে যার মতো করে পার্ক এলাকা ত্যাগ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মৌলভীবাজার শহরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল শিশু বিনোদনের জন্য একটি পার্ক নির্মাণের। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে ২০১২ সালে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসন ও শিশু অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির উদ্যোগে শহরের বনবীথি এলাকার পরিত্যক্ত পর্যটন করপোরেশন রেস্ট হাউসকে শিশুপার্ক হিসেবে নামান্তর করা হয়। পর্যটন শিল্পের এই রেস্ট হাউসসহ আশপাশের সাড়ে ৩ একর ভূমিতে শিশুদের আনন্দের জন্য নির্মাণ করা হয় শিশু পার্ক।
এখন যেমন ওখানে নেই শিশু বিনোদনের ব্যবস্থা। তেমনি পার্কটিতে কোনো নিরাপত্তা কর্মী কিংবা তত্ত্বাবধায়ক না থাকায় অরক্ষিত পার্কটি এখন বেহালদশায়। এই সুযোগে স্থানটিতে চলে না অপকর্ম। তাই অভিভাবকরা যেমন এই পার্ক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তেমনি শিশুরাও এখন স্থানটির নাম শুনলে ভয় পায় ও ঘৃনা করে।
মৌলভীবাজার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াকিল উদ্দিন আহমদ শিশু পার্কটির বেহাল অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, ওখানে আমাদের নিয়মিত টহল আছে। যখন পুলিশ ওই জায়গায় টহলে থাকে তখন কপোতকপতীরা পালিয়ে বেড়ায়। আর টহল থেকে চলে আসলে ওই সুযোগ ওরা ওখানে অপকর্ম চালায়। তবে পার্কটি শিশু বিনোদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হলে এমন অবস্থা থাকবে না বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজারে জেলা প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, পার্কটি যে এমন অবস্থায় আছে তা আমার জানা নেই। কারণ আমি এ জেলায় সদ্য যোগদান করেছি। এই পার্কটি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিচ্ছি।


