আঙ্গুলের ছাপ না মেলা, স্থানান্তরিত ভোটার, অপূর্ণাঙ্গ স্থায়ী ঠিকানা, কারিগরি ত্রুটি ও অব্যবস্থাপনার কারণে রাজধানীতে স্মার্ট কার্ড বিতরণের হার কম হলেও প্রত্যন্ত গ্রামে তুলনামূলকভাবে এগিয়ে আছে ইসি।
সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাজধানীতে গড়ে প্রতিদিন ৪০ শতাংশের মতো নাগরিক কার্ড পাচ্ছেন; কুড়িগ্রামের গ্রামে এ হার ৭০ শতাংশের বেশি।
স্মার্ট কার্ড বিতরণে এক সপ্তাহের অভিজ্ঞতায় যে সমস্যাগুলো সামনে এসেছে, সেগুলোর সমাধান করতে নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বসবে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাজধানীর রমনা নির্বাচনী থানার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিকদের কার্ড বিতরণ চলছে সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ কেন্দ্রে। উত্তরা নির্বাচনী থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডে বিতরণ চলছে উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে।
ঢাকার জ্যেষ্ঠ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, “শুরুতে কিছু সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি আমরা। এখন তা কাটিয়ে উঠছি। দুই জায়গায় ৪০ শতাংশের বেশি বিতরণ হচ্ছে।”
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, রাজধানীতে স্থানান্তরিত ভোটার বেশি বলে সমস্যাও হচ্ছে বেশি। অনেকেই ওই দুটি এলাকায় ভোটার হয়ে পরে বাসা বদলে অন্য এলাকায় চলে গেছেন। এ কারণে অনুপস্থিতি বেশি। আরা উৎসাহী অনেকে কার্ড নিতে কেন্দ্রে চলে আসছেন, যদিও তিনি ওই এলাকার ভোটার নন।
“তাছাড়া আঙ্গুলের ছাপ না মেলা, স্থায়ী ঠিকানা সঠিকভাবে পূরণ না করা, নিবন্ধন ফর্মের প্রয়োজনীয় তথ্য কম্পিউটারে না থাকা এবং ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করায় অনেকে কেন্দ্রে উপস্থিত হয়েও কার্ড নিতে পারছেন না।”
শাহ আলম জানান, কারিগরি ত্রুটি হলে বা কারও কার্ড প্রিন্ট হয়ে না এলে বা খোঁজে পেতে বিলম্ব হলে আঙ্গুলের ছাপ ও আইরিশের প্রতিচ্ছবি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের যোগাযোগ নম্বর রেখে দেওয়া হচ্ছে। পরে তাদের কাছে কার্ড পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
তার দাবি, ঢাকার মধ্যে রমনা থানা নির্বাচনী এলাকায় নাগরিকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি এবং জটিলতা কাটিয়ে সেখানে দ্রুত সেবা দেওয়া হচ্ছে; উত্তরা এলাকাতেও ধীরে ধীরে কার্ড বিতরণের হার বাত্।
রমনা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহবুবা মমতা হেনা জানান, অফিস খোলার দিনের চেয়ে শুক্র ও শনিবার বেশি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। রোববার নির্ধারিত ৫ হাজারের বেশি ভোটারের মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৭ জন স্মার্ট কার্ড পেয়েছেন। এদিন সমস্যার কারণে ২৪৫ জনকে কার্ড দেওয়া যায়নি।
উত্তরা থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. শাহজালাল জানান, উত্তরায় রোববার বেলা তিনটা পর্যন্ত ৯৮৪ জনকে কার্ড দেওয়া হয়েছে। দেড়শ জনের বিভিন্ন অভিযোগ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।
রোববার উত্তরা বিতরণ কেন্দ্রে ফারুক নেওয়াজ মহসিন, হাসান আলী, মাহবুব রশীদসহ অন্তত দশজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রেজিস্ট্রার খাতায় নাম, ঠিকানা লিখতে লিখতে তারা জানান, নির্ধারিত এলাকার ভোটার হয়েও স্মার্ট কার্ড প্রিন্ট হয়ে না আসার কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে না। ঠিকানা পরিবর্তন করায় একজনের কার্ড প্রস্তুত হয়নি বলে জানানো হয়েছে। আঙ্গুলের ছাপ না মেলায় দু’দিন এসেও কোনো সমাধান পাননি বলে জানালেন একজন।
“শনিবার আমার কার্ড বিতরণের তারিখ ছিল, আমি জানতামই না। আজ এসে বেশ সহজেই কার্ড পেয়ে গেলাম। লোকজন কম থাকায় ঝামেলা হয়নি। তবে কার্ডে বর্তমান ঠিকানাটি দৃশ্যমান রাখা ঠিক হয়নি; স্থায়ী ঠিকানা থাকলে ভালো হতন” বলেন ইশরাত হাসিন।
কয়েকজন অপারেটরও স্বীকার করেন, অনেক কার্ড প্রিন্ট হয়ে না আসায় সার্ভারে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তাতে হতাশ হচ্ছেন নাগরিকরা।
বিতরণ কেন্দ্রে ইসির আইডিইএ প্রকল্পের টেকনিক্যাল এক্সপার্ট ফয়সাল মো. শাহনেওয়াজ বলেন, “প্রথম দিনে কিছু জটিলতার মুখোমুখি হয়েছিলাম আমরা। এখন কাকাটিয়ে উঠেছি। ফিঙ্গার প্রিন্ট না মিললে বা ঠিকানাসহ প্রয়োজনীয় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে তাদের কার্ড প্রিন্ট করা হয়নি। এ জন্যে অনেকে ভোগান্তি হচ্ছে বলে অভিযোগ জানিয়েছেন।”
ঢাকার বাইরে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে বিলুপ্ত ছিটমহল দাশিয়ারছড়ায় চলছে স্মার্ট কার্ড বিতরণ।
রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমার এখানে প্রতিদিন ৭০ শতাংশের বেশি নাগরিক কার্ড নিয়ে যাচ্ছে। অনেকে এ এলাকায় ভোটার হলেও দূর দূরান্তে থাকায় কার্ড নিতে পারছেন না। আঙ্গুলের ছাপ ও ঠিকানা নিয়ে এখানে ঝামেলা কম। সবাইকে বলেছি ২২ অক্টোবরের মধ্যে কার্ড নিয়ে যাওয়ার জন্যে।”
অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহে রাজধানী ও ঢাকার বাইরের বিতরণের অভিজ্ঞতা নিয়ে পরে বড় পরিসরে বিতরণে যাবে নির্বাচন কমিশন।


