ঢাকার ডেমরায় প্রেমের জন্য এক কিশোরকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে মেয়ের বাবা ও ভাইদের বিরুদ্ধে। নিহত জাহিদ হোসেন (১৬) উত্তর বাড্ডার শাহজাদপুরে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন। একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ করতেন তিনি।
ডেমরার বাসিন্দা মো. সিদ্দিক ও তার ছেলের বিরুদ্ধে জাহিদকে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
নিহতের ভাই মো. রিয়াজ হোসেন বলেন, “তাদের মেয়ের সঙ্গে জাহিদের অল্প কয়েকদিনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মেয়ের বাবা মো. সিদ্দিক, তার ছেলে মোসলেমসহ আরও কয়েকজন।”
জাহিদের বাবার নাম আবদুল বারেক। তিন ভাইয়ের মধ্যে জাহিদ মেজ। উত্তর বাড্ডার নজর মাহমুদ মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ার পর দুই বছর আগে বাড্ডার একটি হার্ডওয়্যারের দোকানে কাজ নেন তিনি। শাহজাদপুরের এ ব্লকের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৬১ নম্বরের একটি বাসায় ভাড়া থাকেন তারা।
ছেলের মৃত্যুর পর অভিযোগ নিয়ে বারেক থানায় এসেছিলেন বলে ডেমরা থানার ওসি কাউসার আহমেদ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, থানায় অভিযোগ আসার পর খোঁজ নিয়ে তারা জাহিদকে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
নিহতের ভাই রিয়াজ বলেন, কয়েকদিন আগে জাহিদ মেয়েটিসহ গিয়ে তার বাবা-মায়ের কাছে বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। পরে দুই পরিবার রাজি না হওয়ায় তাদের দুইজনকে কোনো ধরনের যোগাযোগ না রাখতে বলা হয়।
“সোমবার বিকালে সাড়ে ৪টায় জাহিদ বাসা থেকে বের হওয়ার পর রাত পৌনে ১২টার দিকে মেয়েটির বাসা থেকে ফোন করে বলা হয়, জাহিদ তাদের বাসায় আছে। আমাদের ডেমরায় মেয়েটির বাসায় যেতে বলা হয়।”
মেয়েটির ভাই মোসলেম তার বাবার বাসা থেকে কিছুটা দূরে থাকেন জানিয়ে রিয়াজ বলেন, ওই বাসায় নিয়ে মোসলেম তাকে একটি সাদা কাগজে সই করতে বলেন। যেন জাহিদ তার বোনের সঙ্গে আর যোগাযোগ না করে সেজন্য এই কাগজে সই করতে হবে বলে তারা বলেন।
“ওরা বলেছিল, এখন দিন খারাপ। প্রেম না থাকলে ছেলেরা এসিড মারে, অন্য অনেক ঘটনা ঘটায় তোমার ভাই এমন কোনো ঘটনা ঘটাবে না সেটা তোমরা কাগজে লিখিত দাও। ওই সময় জাহিদ কোথায় আছে সেটা তারা বলছিল না। পরে ভোররাতে জাহিদকে আমাদের কাছে তুলে দেওয়া হয়। তখনও তার বুক ধড়ফড় করছিল, হাত-পা নড়ছিল না। চোখ বন্ধ ছিল, আর মুখটা খোলা থাকলেও তার জ্ঞান ছিল না।”
এরপর জাহিদকে কুর্মিটোলা হাসপাতালে নেওয়া হয় জানিয়ে রিয়াজ বলেন, “সেখান থেকে বলা হয় ভাল ডাক্তাররা সব ছুটিতে আছেন। আপনারা উনাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান।”
ঢাকা মেডিকেলে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহিদকে মৃত ঘোষণা করেন বলে জানান তিনি।


