বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হিন্দু মেয়ে মুসলিম হওয়ায় পরিবারে নির্যাতন: ফেসবুক স্ট্যাটাসে তোলপাড়

হিন্দু মেয়ে মুসলিম হওয়ায় পরিবারে নির্যাতনবাংলাদেশে হিন্দু পরিবারের একটি মেয়ে আইনী প্রক্রিয়া মেনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করার খবর পাওয়া গেছে। ধর্মান্তরিত হওয়ায় মেয়েটির পরিবারের সদস্যরা তার ওপর নির্যাতন করছে বলে মেয়েটি তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানিয়েছে।

গত ১৪ অক্টোবর তারিখ সন্ধ্যা ৭:৩০ মিনিটে Afsana Parbin নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিচের লেখাটি প্রকাশ করে সবার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করতে থাকে। সাথে তার ধর্মান্তরিত হওয়ার এফিডেভিট-এর ছবিও প্রকাশ করা হয়। তাই ওই আইডির লেখাটি হুবহু তুলে ধরা হল।

“আমি রোকশানা পারভীন উরফে মনিষা রানী দাশ, পিতা: বাদল চিন্দ্র দাশ, মাতা: জলি রানী দাশ। সাং কলেজ রোড, থানা শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার। আমি গত ২৬/৯/১৬ ইং আমার পিতা ও মাতা সহ পরিবারের সকলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করিয়া আদালতে গিয়া নিজ ইচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করি।

আমি পূর্ব থেকে ইসলাম ধর্মের প্রতি আগ্রহী ছিলাম এবং আমি একটি মুসলিম ছেলেকে পছন্দ করে বিয়ে করি। মুসলিম ছেলের সাথে সম্পর্ক ছিল এই মর্মে পূর্ব থেকে আমার পরিবারের নিকট অনেক নির্যাতন এর শিকার হই। নির্যাতন সহিতে না পারিয়া আমি আমার পছন্দের মানুষের কাছে চলে আসি। এর পর আমরা উভয়ই আমাদের ভবিষ্যৎ, ভালমন্দ বিবেচনা করিয়া বিবাহের সিদ্ধান্তের পর আমরা নিজ নিজ ইচ্ছায় বিবাহ করি।

বিবাহের ২দিন পর আমার বড় বোন অনামিকা রানী দাশ (বয়স ২৬ অবিবাহিত) ও আমার মামা সুমন দাশ (ঠিকানা: ডাক বাংলার পার, শ্রীমঙ্গল) আমার মা জলি রানী দাশকে দিয়ে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। মামলাটি ছিল অপহরণ।

কয়েক সাপ্তাহ পর মামলাটি মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য আমি মৌলভীবাজার কোর্টে গেলে কোর্ট আমাকে সেফ হোমে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। সেফ হোমে রাখার কারণ হচ্ছে আমার স্বামীকে মিথ্যা মামলা দেওয়ার সময় আমার বয়স ১১ মাস কমিয়ে দেওয়া হয়। আদালতে প্রমাণ হয় আমারা নিজ নিজ ইচ্ছায় বিবাহ সম্পন্ন করি।বয়স কম থাকায় ১১ মাস সেফ হোম কারাগারে থাকার জন্য আদালতের অনুমতি গ্রহণ করি।

আমার জন্ম সাল ১/৩/১৯৯৭ ছিল। শারীরিক অসুস্থতারর কারণে প্রাইমারি স্কুলে আমি ২ বছর study gap দেই। এর পর পুনরায় স্কুলে ভর্তি হওয়ার সময় আমার বয়স কমিয়ে ১৯/৯/১৯৯৯ করা হয়।

১৬ দিন সেফ হোমে থাকা অবস্তায় আমার মা জলি রানী দাশ আসিয়া বলেছিলেন মামলা উঠাইয়া নিবে এবং আমার সব শর্ত মানিয়া নিবে।

আমার শর্ত অনুযায়ী আমার পরিবার আমাকে বাসায় নিয়া যায়। এখন তারা আমার কোনও শর্তই তারা রাখছে না বরং আমাকে বাসায় আনিয়া আমার বোন অনামিকা রানী দাশ (২৬ অবিবাহিত) এবং আমার মামা সুমন দাশ আমাকে ইসলাম ধর্ম ছাড়িয়া হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করার জন্য খুব নির্যাতন করিতেছে।

আমি আমার স্বামীর সাথে ফোনে যোগাযোগ করি আমার স্বামী আসতে চাইলে আমি উনাকে বারণ করি আসার জন্য।

আমি এখন খুব কষ্ট করে এই পোস্টটি লিখেছি। আমাকে জোর করে এই গজবখানায় ঘড়বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমি আল্লাহতালা ও রাসূল (স) এর উপর বিশ্বাস আনিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছি। কিছু দিন আগে আমার এক বড় ভাই বলছিলেন মানুষ মানুষের জন্য, মুমিন মুমিনের ভাই, সমগ্র মুসলিম জাতি তোমরা এক হও।”

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *