জামায়াতে ইসলামীর আমির হিসেবে শপথ নেওয়ার পর দেওয়া বক্তব্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করলেন মকবুল আহমাদ।
সোমবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে শপথ নেওয়ার পর মকবুল আহমাদ বলেন, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যে সব সাধারণ মানুষ ও বীর মুক্তিযুদ্ধাদের বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা ও অকৃত্রিম ত্যাগের বিনিময়ে আমরা স্বাধীন-স্বার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি, তাদের কথা আজ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি।’
মকবুল আহমাদ বলেন, ‘বিশেষভাবে স্বাধীনতার স্থপতি শেখ মুজিবুর রহমান, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাষানী এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গনি উসমানীসহ বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতাদের আমি সশ্রদ্ধ স্মরণ করছি।’
এদিন জামায়াতের প্রচার বিভাগের স্টাফ এম আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে মকবুল আহমাদের লিখিত ভাষণ গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
সোমবার জামায়াতের তৃতীয় আমির হিসেবে মকবুল আহমাদকে শপথ পাঠ করান দলটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার এটিএম মাসুম।
কেন্দ্রীয় ও ফেনী জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, মকবুল আহমাদের গ্রামের বাড়ি ফেনী জেলার দাগনভূঁঞা উপজেলার পূর্বচন্দ্রপূর ইউনিয়নের ওমরাবাদে। পেশায় তিনি স্কুল শিক্ষক ছিলেন। ফেনী মডেল হাইস্কুলের শিক্ষকতা থেকে অবসরের পরই জামায়াতের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরপরই গ্রামের বাড়ি যাওয়া থেকে বিরত থাকেন তিনি। পারিবারিক জীবনে ৪ সন্তানের জনক মকবুল আহমাদ। রুকন থেকে পর্যায়ক্রমে দলটির অঞ্চলভিত্তিক পরিচালক, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করেন।
জামায়াতের সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামী গ্রেফতারের পর বিগত প্রায় ৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত আমিরের দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ সময় তিনি আত্মগোপনে থেকেই দল পরিচালনা করেছেন।
জামায়াতের নেতাকর্মীদের কাছে ‘মুখলিস’ (সৎ) চরিত্রের মানুষ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন মকবুল আহমাদ। দলের নেতাকর্মীদের কাছে একাত্তরে তার অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তারা কোনও কিছু বলতে রাজি হননি।
রাজনৈতিক জীবনে ফেনী ২ আসন থেকে ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে হেরে যান মকবুল আহমাদ। প্রচারণার আড়ালে থাকা জামায়াতের নতুন আমিরকে নিয়ে অন্যান্য দলের মধ্যেও আলোচনা কম। যদিও গত মাসে তার আমির হওয়ার খবর প্রকাশের পর তরিকত ফেডারেশনের মহাসচিব এম এ আউয়াল এমপি বলেছিলেন, ‘মকবুল আহমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময়কালের চিত্র খতিয়ে দেখা হোক।’


