সংবাদপত্রের নয়, বরং সাংবাদিকতার স্বাধীনতা থাকাটা বেশি জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের ৬২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রেসক্লাব চত্বরে ৩২তলা বিশিষ্ট বঙ্গবন্ধু মিডিয়া কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসিনা বলেন,‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে সেটাই হয় যে মালিকই সম্পাদক, কাজেই সেখানে যেটা হয়ে যায় যে মালিকানাটা যেহেতু নিজের হাতে থাকে তো সাংবাদিকতার সুযোগটা সেখানে মাঝে মাঝে একটু বাধাগ্রস্ত হয়। এতে কোনো সন্দেহ নাই। যে কারণে আমি সব সময় বলে থাকি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা না সাংবাদিকতার স্বাধীনতা।’
এ সময় রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি গণমাধ্যমের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আপনি সুবিধাটুকু ভোগ করবেন অথচ দায়িত্ব পালন করবেন না, এটা না। দেশের প্রতি তো একটা দায়িত্ব থাকে, কর্তব্যও থাকে, সমাজের প্রতি দায়িত্ব থাকে, সে দায়িত্বটাও পালন করতে হয়।’
শেখ হসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশ কিন্তু এখন যথেষ্ট পরিমাণে সাংবাদিকতার স্বাধীনতা আছে। যদিও আমাদের প্রতিপক্ষ বিশ্বব্যাপী প্রচার করে বেড়ায় যে, দেশে সাংবাদিকতার কোনো সুযোগ নেই, স্বাধীনতা নেই। অনেক সময় অনেকে এই বিষয়ে আমাকে এই বিষয়ে প্রশ্নও করে। তখন আমি বলি স্বাধীনতা যদি নাই থাকে তাহলে এই কথাটা বলার স্বাধীনতা তারা কোথা থেকে পেল?’
গত সাত বছরে নিবন্ধন দেওয়া পত্রিকার সংখ্যা প্রায় সাড়ে সাত শতাধিক জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে বেসরকারি খাতে অনুমোদন প্রাপ্ত স্যাটেলাইট চ্যানেলের সংখ্যা ৩১টি। সম্প্রচাররত চ্যানেলের সংখ্যা ২৬টি। এরপর রেডিও রয়েছে। বিভিন্ন চ্যানেলের টক শোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে টকশোগুলো হয় সেগুলো শুনলে কে বলবে যে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নাই বা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নাই?’
বর্তমান সরকার দেশের অন্যান্য খাতের মতো গণমাধ্যমের উন্নয়নেও বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট গঠনের কথা উল্লেখের পাশাপাশি তিনি দুঃখ করে বলেন, সাংবাদিকদের কল্যাণের জন্য এই তহবিল, অথচ গণমাধ্যমের মালিকরাই এই তহবিলে অর্থ সাহায্য দেননি।
শেখ হাসিনা আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এমন একটি সংগঠন যে সংগঠন গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং গণমানুষের অধিকার আদায়ের জন্য একদম তৃণমূল থেকে এই সংগঠনটা গড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সংগ্রামের পথ পাড়ি দিয়ে নির্বাচনের মাধ্যমেই আওয়ামী লীগ সরকারে গেছে। দুঃখ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য হলো এমন কিছু দলের সঙ্গে আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে হয় যে দলগুলো মাটি ও মানুষের মধ্য থেকে গড়ে ওঠেনি।’
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর গণমাধ্যম বিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, এডিটরস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম চৌধুরী এবং সভাপতি শফিকুর রহমানও বক্তব্য দেন।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মুহাম্মদ শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি (বিএফইউজে) মনজুরুল আহসান বুলবুল।
বার্তা সংস্থা বাসস জানিয়েছে, দুই দশমিক ০৬ একর জমি নিয়ে প্রেসক্লাব বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স-এর নকশা প্রণয়ন করা হয়েছে। ভবনটির প্রথম ১০ তলা প্রেসক্লাব এবং মিটিং, কনফারেন্সের ভাড়ার জন্য ব্যবহার করা হবে। ১১ তলা থেকে ২৮ তলা পর্যন্ত বিভিন্ন সংবাদপত্র, দেশি-বিদেশি সংস্থা, টেলিভিশ ও রেডিওর জন্য ভাড়া দেওয়া যাবে। ২৯তলা থেকে ৩১তলা পর্যন্ত হেলথ ক্লাব, সুইমিংপুল, জিমনেসিয়াম ইনডোর গেমস, গেস্ট হাউস, ডাইনিং হল সিনেপ্লেক্স ইত্যাদির জন্য বরাদ্দ থাকবে।



Leave a Reply