বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

শেখ হাসিনাকে কাঁদালেন সৈয়দ আশরাফ

শেখ হাসিনাকে কাঁদালেন সৈয়দ আশরাফআওয়ামী লীগ শুধু একটি রাজনৈতিক দলই নয়, হাজার হাজার নেতাকর্মী, জাতির পিতা ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের রক্তের অনুভূতি। বঙ্গবন্ধু কণ্যা পিতৃহারা। আমিও হারিয়েছে আমার পিতাকে। কোনো ষড়যন্ত্র এই দলকে ধ্বংস করতে পারবেনা।

আবেগঘন কন্ঠে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক যখন বঙ্গবন্ধু হত্যা, জাতীয় চার নেতা হত্যাসহ আওয়ামী লীগের সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক ইতহিাস বলছিলেন, সম্মেলন স্থলে তখন নিস্তব্ধতা এসে যায়। শেখ হাসিনাসহ মঞ্চে উপস্থিত সবার চোখ ছলছল।

পিতৃহারা নেতৃত্ব আওয়ামী লীগকে আরো সামনে নিয়ে যাবে বললেন সৈয়দ আশরাফ। নিজে কাঁদলেন সবাইকে কাঁদালেন। মুহুর্তে সবাই যেন ফিরে গেলো ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট আর ৩রা নভেম্বরে।

আওয়ামী লীগের ২০তম জাতীয় সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদন পেশকালে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এ কথা বলেন সৈয়দ আশরাফ। আওয়ামী লীগকে বিভিন্ন সময় ধ্বংসের চেষ্টা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা হয়েছে, জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়েছে। তাও এই দলকে দমানো যায়নি। ধ্বংস করা যায়নি। দিন দিন আরও শক্তিশালীই হয়েছে আওয়ামী লীগ’।

‘ভাষা আন্দোলন থেকে এ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের কর্মীরা যে পরিমাণ রক্ত দিয়েছেন, পৃথিবীর আর কোনো দল এমন রক্ত দেয়নি ও এতো ত্যাগ স্বীকার করেনি’।

তবে সাধারণ সম্পাদকের প্রতিবেদনটি অনেক বড় হওয়ায় সেটি পাঠ না করে কাউন্সিলরদের প্রতি পুরো প্রতিবেদনটি নিয়ে পড়ার আহ্বান জানান আশরাফ। তিনি বলেন, ‘এ প্রতিবেদন পড়তে অনেক সময় লাগবে। তাই আপনারা এটি সঙ্গে করে নিয়ে যাবেন’।

সৈয়দ আশরাফ বলেন, এই সম্মেলন একটি ঐতিহাসিক সম্মেলন। আগামী দিনের দল পরিচালনা ও দেশের উন্নয়নের যুগান্তকারী উদ্যোগ ও পরিকল্পনা নেওয়া হবে এখান থেকেই।

তিনি বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আওয়ামী লীগের আমি সন্তান। আওয়ামী লীগের ঘরেই আমরা জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায়, আমারও কিন্তু হৃদয়ে ব্যথা লাগে। আওয়ামী লীগের একটা কর্মী যদি ব্যথা পায় সেই ব্যথা আমিও পাই।”

আশরাফ বলেন, “আমি দুই দুই বার সম্পাদক ছিলাম। শেখ হাসিনার উপদেশে দলকে পরিচালনা করেছি। আওয়ামী লীগের মধ্যে কোনো ভাঙন ধরেনি, কোনো কন্সপিরিসিজম তৈরি হয়নি।”

আরও পড়ুন