বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হানিফ সাহেবরা ঠেকাক, আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব: রিজভী

হানিফ সাহেবরা ঠেকাক, আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব: রিজভীক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের এক নেতা ৭ নভেম্বর বিএনপির কর্মসূচি প্রতিহত করার হুমকি দেওয়ার পরও ওইদিন সমাবেশ করার বিষয়ে অনড় অবস্থানের কথা জানিয়েছে বিএনপি।

মঙ্গলবার দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বলেন, “৭ নভেম্বর গণতন্ত্র ফিরে পাবার ও স্বাধীনতা সুরক্ষার একটি মহান দিন। এই দিবস পালিত হবে। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে বলছি, হানিফ সাহেবরা প্রতিহত করুন। আমরা জলপাইয়ের পাতা নিয়ে এগিয়ে যাব, দিবসটি পালন করবই।”

১৯৭৫ সালের ১৫ অাগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর রাজনৈতিক পালাবদলের এক পর্যায়ে সেনানিবাসে বন্দি হন তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান।এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তিনি ৭ নভেম্বর মুক্ত হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের পর বিএনপি গঠন করেন।

আর চার দিন আগে ৩ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর চার ঘনিষ্ঠ সহচর সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজউদ্দীন আহমদ, এম মনসুর আলী ও এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে কারাগারে হত্যা করা হয়।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ঘটনবহুল এই দিনটিকে ‘বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করে থাকে বিএনপি। অন্যওদিকে আওয়ামী লীগ পালন করে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা  দিবস’ হিসেবে; তাদের রাজনৈতিক মিত্র জাসদ দিনটি পালন করে ‘সিপাহি জনতার অভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে।

গত ২০ অক্টোবর বিএনপি এই দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কিন্তু ওই দিন বিএনপির কর্মসূচি ঠেকানোর হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ।

দলটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ সোমবার এক আলোচনা সভায় বলেন, “পঁচাত্তরের ৩ নভেম্বরের ঘটনা আড়াল করতে সিপাহী বিপ্লবের নামে পঁচাত্তরের ঘাতকগোষ্ঠি তথাকথিত বিপ্লব দিবস পালন করে। এই দিন তারা হাজারো সেনা সদস্যকে হত্যা করেছে।

“এই সেনা হত্যাকারীদের মাঠে নামার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। তাদেরকে কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বিপ্লবের নামে এই ঘাতকদের আশ্রয় প্রশ্রয় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।”

এর জবাবে নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি, হানিফ সাহেব যে কথা বলেছেন, এটা তার ব্যক্তিগত বক্তব্য, সরকারের বক্তব্য নয়।

“আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই সমাবেশ সরকার করতে দেবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে, পুলিশও তা অনুমোদন দেবে। তাদের কাছ থেকে আমরা বিভিন্নভাবে ইংগিতও পাচ্ছি।”

দলের চেয়ারপাসন খালেদা জিয়া উপস্থিতিতে ওই সমাবেশ সুচারু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।

আওয়ামী লীগ নেতা হানিফের উদ্দেশ্যে রিজভী বলেন, “আপনাদের অস্ত্র আছে, রাইফেল আছে, আপনাদের সাজানো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে, আপনারা অনেক কিছুই করতে পারেন। কিন্তু মানুষের হৃদয়ের ভেতরে যে দিবসটি পালিত হয়, সেই দিবসটি মুছবেন কি করে।”

সংবাদ সম্মেলনে দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহজাদা মিয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা এ বিএম মোশাররফ হোসেন ও মুনির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন