শরীয়তপুরে পুলিশ সদস্যকে থাপ্পড় মেরে কানের পর্দা ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরা হলেন, শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন হাওলাদার ও পালং তুলাসার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাগরণ শেখ।
বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার শেরেবাংলা নগর এলাকা থেকে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে।
শরীয়তপুর সদর থানা সূত্রে জানা গেছে, থাপ্পড় দিয়ে পুলিশ সদস্যের কান ফাটিয়ে দেওয়ার ঘটনায় ওই থানায় দুটি মামলা হয়েছে। দুটি মামলাতেই সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আক্তার হোসেন ও তার মামা আলমগীর হোসেন হাওলাদার এবং জাগরণ শেখকে আসামি করা হয়েছে। একটি মামলার বাদী হয়েছেন সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম। আরেকটি মামলার বাদী হয়েছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা সুমন কুমার পোদ্দার। আজ শরীয়তপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তানভির হাসান পুলিশের একটি দল নিয়ে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে অভিযান চালিয়ে আলমগীর ও জাগরণকে গ্রেপ্তার করেছে। আক্তার হোসেন এখনো পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আক্তার হোসেন গত মঙ্গলবার শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসক দেবাশীষ সাহার কক্ষে যান। সঙ্গে ছিলেন তার মামা আলমগীর হোসেন হাওলাদার। এ সময় সেখানে তাদের সঙ্গে জাগরণ শেখও উপস্থিত ছিলেন। তারা দেবাশীষ সাহার কাছে হোসেন খন্দকার নামের এক রোগীর আঘাতের চিকিৎসাজনিত সনদ চান। রোগী ছাড়া সনদ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তখন আক্তার চিকিৎসককে গালাগাল দিয়ে অপদস্থ করতে থাকেন। সেখানে তখন চিকিৎসা নেওয়ার জন্য ছিলেন শরীয়তপুর জেলা প্রশাসকের বাসভবনে দায়িত্বরত পুলিশের নায়েক সেলিম মাতুব্বর। তিনি চিকিৎসককে কেন এভাবে অপদস্থ করা হচ্ছে তা জানতে চান। তখন আক্তার উত্তেজিত হয়ে ওই পুলিশ সদস্যকে মারধর করতে থাকেন। আক্তারের থাপ্পড়ে সেলিমের ডান কানের পর্দা ফেটে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বর্তমানে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে তাঁকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
শরীয়তপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খলিলুর রহমান বলেন, ঢাকায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের শরীয়তপুর আনা হচ্ছে। পলাতক আক্তার হোসেনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।


