বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

হাইকমিশনার প্রত্যাহার করতে পারে ভারত-পাকিস্তান

হাইকমিশনার প্রত্যাহার করতে পারে ভারত-পাকিস্তানগুপ্তচরবৃত্তিকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি কূটনীতিক বহিষ্কারের জের ধরে সাময়িকভাবে নিজেদের হাইকমিশনার প্রত্যাহার করতে পারে ভারত ও পাকিস্তান। খবর একপ্রেস ট্রিবিউনের।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ভারত অধিকৃত কাশ্মীরের উরিতে সন্ত্রাসী হামলায় ১৯ ভারতীয় সেনা নিহতের ঘটনায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে।

ওই ঘটনার জের ধরে দুই দেশই প্রতিপক্ষের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এনে তাদের বহিষ্কার করে আসছিল। এরমধ্যেই উভয় দেশের হাইকমিশনারদের সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করে নেয়ার আশংকার কথাও উঠল।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ বিরোধ শুরু হয়েছে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লির পাকিস্তান হাইকমিশনের কর্মকর্তা মাহমুদ আখতারকে গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আখতার পাকিস্তান হাইকমিশনের ভিসা কর্মকর্তা ছিলেন। পরে তাকে ভারত থেকে বহিষ্কার করা হলেও গ্রেফতারের পর ভারতীয় পুলিশ তার কাছ থেকে যে জবানবন্দি আদায় করেছে, তা হাইকমিশনের অন্য কূটনীতিকদের ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয়েছে। এর মধ্যে ছয়জন পাক কর্মকর্তার পরিচয় ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হলে তাদেরকে প্রত্যাহার করে নেয় পাকিস্তান।

এদিকে বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদের ভারতীয় হাইকমিশনের আটজন কর্মকর্তা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং-‘র’ এবং ইন্টিলিজেন্স ব্যুরা-আইবির এজেন্ট। নাম-পরিচয় প্রকাশিত হয়ে যাওয়ার পর নয়াদিল্লির সামনেও তাদের প্রত্যাহার করে নেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে অবহিত একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা কূটনীতিকদের পরিচয় প্রকাশের ঘটনার জন্য পুরোপুরি ভারতকে দায়ী করেছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, দিল্লিতে নিযুক্ত পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের পরিচয় প্রকাশ করে ভারত ‘কূটনৈতিক সমঝোতা’ ভঙ্গ করেছে। কারণ উভয়পক্ষের কর্মকর্তারা অবহিত ছিলেন, এ কর্মকর্তারা ভারতকে জানিয়েই পরিচয় প্রকাশ না করে তাদের দায়িত্ব পালন করছিলেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, ভারত যে আচরণ করেছে তা ভাবা যায় না। ভারতের হস্তক্ষেপের কারণে দুই দেশকেই গুরুতর মাশুল দিতে হবে। এ ঘটনার জের ধরে যেকোনো সময় উভয় দেশ নিজেদের কূটনীতিকদের প্রত্যাহার করে নিতে পারে। এছাড়াও উভয় দেশই নিজেদের কূটনীতিক মিশন থেকে কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারে।

এদিকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া তার সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে আট ভারতীয় কূটনীতিক ‘র’ এবং আইবির সঙ্গে জড়িত বলে নিশ্চিত করেন।

তারা হলেন- বাণিজ্যিক কাউন্সিলর রাজেশ কুমার অগ্নিহোত্রি, ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস ও সংস্কৃতি) বলবীর সিং, ফার্স্ট সেক্রেটারি (বাণিজ্য) অনুরাগ সিং, ভিসা অ্যাটাশে অমরদ্বীপ সিং ভাট্টি, ভিসা অ্যাসিস্টেন্ট ধর্মেন্দ্র, বিজয় কুমার ভার্মা ও মাধবন নন্দ কুমার এবং অফিস সহকারী জয়াবালান সেন্থিল।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমের দাবি, অভিযুক্ত কর্মকর্তারা ভারতীয় গুপ্তচর সংস্থা ‘র’ অথবা ‘আইবি’র হয়ে কাজ করছিলেন।

তারা চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর-সিপিইসিকে ব্যাহত করার চেষ্টাসহ বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং পাকিস্তানজুড়ে তথ্যজাল তৈরি করে বিদেশে দেশটির ভাবমর্যাদা ধ্বংসের বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত ছিলেন বলেও দাবি পাকিস্তানের।

জাকারিয়া দাবি করেন, এই কর্মকর্তারা কূটনীতিকের পরিচয়ে সন্ত্রাসী এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে যোগসাজশে জড়িত ছিলেন।

এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আনা পাকিস্তানের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *