বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

মন্দির-হিন্দু বসতিতে হামলা: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৩ আওয়ামী লীগ নেতা বহিষ্কার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মন্দির ও বাসাবাড়িতে হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় তিন নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসকাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার।

বহিষ্কৃত তিন নেতা হলেন হরিপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ফারুক আহম্মেদ, চাপড়তলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সুরুজ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহপ্রচার সম্পাদক আবুল হাশেম।

আল মামুন সরকার বলেন, সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে তিনজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের তরফ থেকে এ নিয়ে গণমাধ্যমের কাছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও পাঠানো হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকারের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই তিন নেতা এবং স্থানীয় একটি হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক রহিম মাস্টারের নেতৃত্বে এবং উস্কানিতে হিন্দুদের বাড়িতে এবং মন্দিরে হামলা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে, নাসিরনগর উপজেলায় সৃষ্ট পরিস্থিতিতে সন্ধ্যায় সেখানে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-১৪-এর একটি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে। ফেসবুকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে গত রোববার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে। এর চার দিন পর গত বৃহস্পতিবার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর আসনের সাংসদ ছায়েদুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর দাবি করেন, সব স্বাভাবিক আছে। তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলা সদরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর ও মন্দিরে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ছিল সুপরিকল্পিত।

গত রোববারের এ ঘটনার রেশ না কাটতেই শুক্রবার আবারও নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ফেসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ তুলে গত রবিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে ১৫টি হিন্দু মন্দির ও শতাধিক ঘরবাড়িতে হামলা হয়। পাশের জেলা হবিগঞ্জের মাধবপুরেও দুটি মন্দিরে হামলা হয়। এই ঘটনার তিনদিন পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হক এলাকায় গিয়ে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে মালাউনরা বাড়াবাড়ি করছে। আর সাংবাদিকরা উস্কানি দিচ্ছে।’

নাসিরনগর হামলার পর মন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্য আরও ক্ষুব্ধ করে তোলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে। এর প্রতিবাদে শুক্রবার বিক্ষোভ করে বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন এ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি জানায়। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে।

আরও পড়ুন