ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী যাত্রীবাহী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন ১২ নভেম্বর থেকে সপ্তাহে চার দিন চলাচল করবে। বর্তমানে এ ট্রেনটি দু’দেশের মধ্যে কলকাতা থেকে সপ্তাহে শনি, সোম ও মঙ্গলবার এবং ঢাকা থেকে বুধ, শুক্র ও রোববার চলাচল করছে। ১২ নভেম্বর থেকে কলকাতা থেকে শুক্রবার এবং ঢাকা থেকে শনিবারও চলাচল করবে। এ রুটে যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ১ জানুয়ারি থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন চালু হচ্ছে।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১২ নভেম্বর থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে সপ্তাহে ৪ দিন কলকাতা রুটে চলাচল করবে। ১২ নভেম্বর শনিবার ঢাকা থেকে ট্রেনটি কলকাতার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং ১১ নভেম্বর শুক্রবার কলকাতা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফিরোজ সালাহ উদ্দিন জানান, বর্তমান সরকার যাত্রীসেবা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে। যাত্রী সেবা বাড়াতেই দু’দেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের ট্রিপ আরও একটি বাড়িয়ে সপ্তাহে ৪টি করা হচ্ছে। উভয় দেশের রেলওয়েসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
রেলওয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অবকাঠামো) কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, নতুন ট্রিপ অনুযায়ী ১১ নভেম্বও কলকাতা থেকে এবং ১২ নভেম্বও ঢাকা থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ঢাকা-কলকাতা রেলপথে দিন দিন যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ জন্য ট্রিপ বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়া ১ জানুয়ারি থেকে খুলনা-কলকাতা রুটে আরও একটি যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করবে। ওই ট্রেনটির প্রাথমিক নাম দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেন।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, স্বাধীনতার আগে খুলনা-কলকাতার মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করলেও স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে তা বন্ধ হয়ে যায়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-ভারত রেলওয়ে আন্তঃসরকারি বৈঠকের সিদ্ধান্তে বলা হয়, ‘দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস’ নামে আরেকটি নতুন ট্রেন ও চলমান মৈত্রী এক্সপ্রেসের ট্রিপ বাড়ানোসহ সব কয়টি ট্রেন এসি করার। এছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামের মধ্যে এখনও ৭-৮টি পুরনো রেললাইন রয়েছে। তার মধ্যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে ৪টি রেললাইন পুনরুদ্ধারের। এগুলো হচ্ছেÑ চিলাহাটি-হলদিবাড়ি, বিরল-রাধিকাপুর, আখাউড়া-আগরতলা এবং শাহবাজপুর-মহিষাসন।
বর্তমানে খুলনা থেকে বেনাপোল পর্যন্ত ৯১ কিলোমিটার রেললাইন তৈরি রয়েছে। বেনাপোল থেকে ভারতের বনগাঁ পর্যন্ত মাত্র ৮ কিলোমিটার এবং বনগাঁ থেকে কলকাতা রেলওয়ে স্টেশন ৭৬ কিলোমিটার পথ। সব মিলিয়ে খুলনা-কলকাতা ১৭৫ কিলোমিটার পথ। এ পথে বর্তমানে দু’দেশের মধ্যে সপ্তাহে ১ দিন শুধু মালবাহী ট্রেন চলাচল করছে। উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের লোকজন ট্রেনে ভারতে গমন করতে গেলে ঢাকায় আসতে হয়। ১ জানুয়ারি নতুন এ ট্রেনটি চালু হলে ওই এলাকার যাত্রীদের আর ঢাকা আসতে হবে না।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ভারতীয় রেলওয়ে উপদেষ্টা দেভেনজিত রায় বলেন, খুলনা-কলকাতায় নতুন যে ট্রেনটি চলাচল করবে সেটির নাম দেয়া হয়েছে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস। শুরুতে এ ট্রেনটি ২ জোড়া করে খুলনা-কলকাতা রুটে চলাচল করবে। বর্তমানে চলাচলকারী মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের চেয়ে আরও আরামদায়ক ও সুন্দর হবে নতুন এ ট্রেনটি জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে যাত্রী চলাচলে রেলপথ খুবই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। যাত্রীদের সুবিধা ও সাশ্রয়ের দিকটি বিবেচনা করেই উভয় দেশের উদ্যোগে দু’দেশের মধ্যে রেলপথ জনপ্রিয় করে তোলা হচ্ছে। নতুন এ ট্রেনটি ১ জানুয়ারি থেকে দু’দেশের মধ্যে চলাচল করবে।


