স্বাধীনতাবিরোধী মোনায়েম খানের বনানীর বাড়ির রাস্তার পাশে সবুজায়নের জন্য বরাদ্দ জমি দখলে নিতে পারবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।
১৯৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৫০ ফুট প্রস্থের ওই জমির বিষয়ে যৌথ জরিপের প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর বুধবার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
সেইসঙ্গে ওই জায়গা থেকে মোনায়েম খানের পরিবারকে উচ্ছেদে নিষেধাজ্ঞাও খারিজ করে দিয়েছে হাই কোর্ট।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহজাদা আল আমিন কবির সোহেল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি এটর্নি জেনারেল মোতাহার হোসেন সাজু।
গত রোববার মোনায়েম খানের বনানীর বাড়ির বরাদ্দ নিয়ে প্রশ্ন তোলে হাই কোর্ট; ওই বাড়ি সংলগ্ন দখল করা জমি জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষকে।
মোনায়েম খানের উত্তরাধিকারীদের হাত থেকে ওই বাড়ি সংলগ্ন ১০ কাঠা জমি উদ্ধার এবং বাড়িটির বরাদ্দ বাতিলে সরকারি সিদ্ধান্তের পর হাই কোর্টের ওই আদেশ আসে।
পাকিস্তান আমলে পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর মোনায়েম খানকে ১৯৬৬ সালে তৎকালীন ডিআইটি বনানী ২৭ নম্বর সড়কে পাঁচ বিঘার ওই প্লটটি বরাদ্দ দেওয়া হয়।
১৯৬৭ সালে জমিটির লিজ দলিল সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি করা হয় বলে রাজউক কর্মকর্তারা জানান। এরপর সেখানে বাড়ি নির্মাণ করেন পাকিস্তান মুসলিম লীগের শীর্ষ পর্যায়ের এই নেতা, নাম দেন ‘বাগ-ই মোনায়েম’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করা মোনায়েম খান ১৯৭১ সালের ১৩ অক্টোবর ওই বাড়িতেই মুক্তিবাহিনীর গুলিতে আহত হন। এরপর হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
স্বাধীনতার পর মোনায়েম খানের উত্তরাধিকারীরা ওই বাড়ির দখল রেখে দেয়। সেই সঙ্গে বাড়ির সামনের ১০ কাঠা সরকারি জমিতেও স্থাপনা নির্মাণ করে দখল করেন বলে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানান।
গত ৩ নভেম্বর সিটি করপোরেশন ওই অবৈধ দখল উচ্ছেদ করলে তা চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে আবেদন করেন মোনায়েম খানের ছেলে এ এইচ এম কামরুজ্জামান খান।
তার আবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে সিটি করপোরেশন দুটি নোটিস দিয়ে ৬০ ফুট জায়গার দখল ছাড়তে বলার পর তা চ্যালেঞ্জ করে তার আবেদনে ওই বছরের ২৬ জানুয়ারি হাই কোর্ট স্থিতাবস্থা জারি করে।
কামরুজ্জামানের আবেদন শুনে আদালত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেয় এবং নিষেধাজ্ঞার পরও উচ্ছেদ অভিযান কেন হয়েছে, সিটি করপোরেশনকে সাত দিনের মধ্যে তার ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
ওই আদেশে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) রোববার বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের হাই কোর্ট বেঞ্চে জবাব দাখিল করে।
সেদিন শুনানির পর আদালত একটি রুল জারি করে। মোনায়েম খানকে কোন ক্ষমতাবলে বনানীর ওই বাড়ি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চাওয়া হয় রুলে। দুই সপ্তাহের মধ্যে রাজউককে এর জবাব দিতে বলা হয়।
সেইসঙ্গে রাস্তার পাশে সবুজায়নের জন্য বরাদ্দ করা ৫০ ফুট বাই ২০০ ফুট জায়গা যৌথ জরিপের মাধ্যমে চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করতে রাজউক ও সিটি করপোরেশনকে নির্দেশ দেয় হাই কোর্ট। ১৬ নভেম্বরের মধ্যে আদালতে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।


