বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষমতায় গেলে হিন্দু-সাঁওতাল নির্যাতনসহ সব বিচার করব: বিএনপি

ক্ষমতায় গেলে হিন্দু-সাঁওতাল নির্যাতনসহ সব বিচার করব: বিএনপিআগামীতে ক্ষমতায় গেলে নাসিরনগরে হিন্দু এবং গাইবান্ধায় গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের নির্যাতনের বিচার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস‌্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

বুধবার এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, “আমরা এই সরকারের কাছে বিচার চাইব না। কারণ যে করছে, তার কাছে বিচার চাওয়া যায় না, তার বিচার করতে হয়। আমাদের অঙ্গীকার, আমার নেত্রীর পক্ষ থেকে, আমার দলের পক্ষ থেকে, সময় আসলে আমরা বিচার করব।”

গয়েশ্বর বলেন, “অপরাধীদের বিচারই শুধু করব না, যারা বিচার করছেন না, তাদের বিচারও করব।”

বাংলাদেশে বিভিন্ন সময় হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতনের জন‌্য আওয়ামী লীগের বিএনপিকে দায়ী করার মধ্যে

জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ’র আলোচনা সভায় একথা বলেন দলটির এই নেতা।

আওয়ামী লীগ অস্বীকার করলেও নির্যাতিত সাঁওতালদের আচরণই ঘটনার জন‌্য দায়ীদের চিহ্নিত করছে বলে মনে করেন গয়েশ্বর।

“সেখানে (গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে) সরকার রিলিফ নিয়ে গেছে- জুতা মারে নাই, থাপ্পড় মারে নাই। গরিব হলেও ওদের (সাঁওতাল) আত্মমর্যাদা আছে, তারা রিলিফ গ্রহণ করে নাই। এরপরও সরকারের হুঁশ হয় না যে মানুষ কাকে শনাক্ত করছে, কাকে দায়ী করেছে।”

আওয়ামী লীগের দেশ পরিচালনার সমালোচনা করে এই বিএনপি নেতা বলেন, “ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীনতা চলছে। ধর্ম নিরপেক্ষতা স্লোগানটা সস্তা কিন্তু অসাম্প্রদায়িক হওয়াটা ততটা সস্তা না।”

১৯৭১ সালের পর থেকে এই পর্যন্ত হিন্দুদের উপর নির্যাতনের বিষয়টি তুলে ধরে ওই ধর্মাবলম্বী গয়েশ্বর বলেন, “আওয়ামী লীগ হিন্দুদের প্রতি অনুরাগী, না হিন্দুরা এদের প্রতি অনুরাগী? যদি প্রশ্ন করি- উত্তর আসবে এই- ভোগে আনন্দ না, ত্যাগেও তো আনন্দ আছে, অর্জনেই তো আনন্দ না, বিসর্জনেও তো আছে।

“হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটগুলো বির্সজন দিতে দিতে আওয়ামী লীগের হাত এতই শক্তিশালী হয়েছে, হায়েনার চেয়েও কঠিন, নাগিনির চেয়েও বিষাক্ত।”

প্রতিবেশী দেশ হিন্দুপ্রধান ভারতের দিকে না তাকিয়ে বাংলাদেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ঐক‌্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান এই বিএনপি নেতা।

“আমি আমার সম্প্রদায়ের ভাইদের বলব, আপনাদেরকে রক্ষা করতে নরেন্দ্র মোদী (ভারতের প্রধানমন্ত্রী) কখনও আসবেন না, ভারত কখনও আসবে না। ভারত চায় তার স্বার্থ উদ্ধার করা জন্য বাংলাদেশের থেকে। কয়টা হিন্দু মরল, কয়টা হিন্দু বাঁচল, কয়টা হিন্দুর সম্পদ গেলো- দে ডোন্ট বদার ফর দ্যাট।”

সভায় বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের উপর হামলার জন‌্য আওয়ামী লীগকে দায়ী করেন।

“আওয়ামী লীগের একজন মন্ত্রী ও স্থানীয় এমপির দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নাসিরনগরে। ঘটনার নয় দিন পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নাসিরনগরে গেছেন। পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে দুষ্কৃতকারীর হিন্দুদের মন্দির ও বাড়ি-ঘরে হামলা করে- এর জবাব তারা দিতে পারবেন না।”

এসব ঘটনার পেছনে ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত পাচ্ছেন বিএনপির এই নেতা।

“আমার খুব আশঙ্কা হয়, সরকার অন্য কোনো একটি নীলনকশা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে কি না। যখন দেশ গণতন্ত্রের জন্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় রাজপথে মুহুর্মুহু স্লোগান হয়, তখন তারা নাশকতার ঘটনা ঘটায়, জনগণের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে ফিরিয়ে নিতে কোনো এক জায়গায় অন্য ঘটনা ঘটায়।”

‘শহীদ জিয়া আইনজীবী পরিষদ’র সভাপতি আবু ইউসুফ সরকারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সঞ্জীব চৌধুরী, প্রবীণ আইনজীবী লুৎফে আলম, বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য নিপুন রায় চৌধুরীও বক্তব‌্য রাখেন।

আরও পড়ুন