গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে রংপুর চিনিকলের বিরোধপূর্ণ জমি থেকে উচ্ছেদের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ দুই সাঁওতালকে জামিন দিয়েছে আদালত।
বৃহস্পতিবার বিকালে গোবিন্দগঞ্জের বিচারিক হাকিমএ এস এম তাসকিনুল হক তাদের জামিন দেন বলে জানান বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গাইবান্ধা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আনিস মোস্তফা তোতন।
জামিনপ্রাপ্তরা হলেন, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কুচাপাড়ার সাকিলা কিসকুর ছেলে বিমল কিসকু ও রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার লোহানীপাড়ার মৃত জঙ্গা সরেনের ছেলে চরণ সরেন।
গত ৬ নভেম্বর সংঘর্ষের পর পুলিশ গুলিবিদ্ধ অবস্থায় তাদের আটক করে। দুজনেই সংঘর্ষের ঘটনায় করা পুলিশের মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল বিমল ও চরণ।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের হাতকড়া খুলে দেওয়া বিষয়ে হাই কোর্টের আদেশের পর কোমরের দড়ি ও হাতকড়া পরানো নিয়ে লুকোচুরির অভিযোগ ওঠার পর মঙ্গলবার তাদেরকে গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে নিয়ে আসে পুলিশ।
সেদিন তাদের গোবিন্দগঞ্জ বিচারিক হাকিম আদালতে হাজির করা হলে বিচারক এ এস এম তাসকিনুল হক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন।
মোস্তফা তোতন বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে তাদের জামিন আবেদন করা হয়। আদালত সন্তুষ্ট হয়ে তাদের স্থায়ী জামিন মঞ্জুর করে।
রংপুর চিনিকলের সাহেবগঞ্জ ইক্ষু খামারের জমি থেকে উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও চিনিকল শ্রমিক কর্মচারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ আরেকজন দ্বিজেন টুডু ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
সাহেবগঞ্জ বাগদা ফার্মে চিনিকলের জন্য অধিগ্রহণ করা ওই জমিতে বছর খানেক আগে কয়েকশ ঘর তুলে সাঁওতালরা বসবাস শুরু করেন। গত ৬ নভেম্বর চিনিকল কর্তৃপক্ষ জমি উদ্ধার করতে গেলে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের সময় সাঁওতালদের বাড়িঘরে লুটপাট হয়।
সংঘর্ষের এক পর্যায়ে পুলিশ গুলি চালায়। ওই ঘটনায় নিহত হন তিন সাঁওতাল, আহত হন অনেকে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি সুব্রত কুমার সরকার বলেন, জামিনের সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তাদের জামিন আদেশের কাগজ কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হচ্ছে।


