বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

সিইওকে ‘অবরুদ্ধ’ রেখে অবস্থান ধর্মঘটে সিটিসেলকর্মীরা

সিইওকে ‘অবরুদ্ধ’ রেখে অবস্থান ধর্মঘটে সিটিসেলকর্মীরাবকেয়া পাওনার দাবিতে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেহবুব চৌধুরীসহ চার কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ রেখে অবস্থান ধর্মঘট করছেন দেনার দায়ে বন্ধের মুখে থাকা দেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

মহাখালীতে সিটিসেলের প্রধান কার্যালয় প্যাসিফিক সেন্টারের ১২তলায় সিইও’র কক্ষের সামনে মঙ্গলবার বেলা আড়াইটা থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন তারা।

বিকাল ৫টার দিকে সংবাদ সম্মেলন করে প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেড এমপ্লয়িজ ইউনিয়ন (পিবিটিএলইইউ) যোগাযোগ সম্পাদক মাহজাবিন মিতালী বলেন, “২২ নভেম্বর আমাদের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন সিইওসহ অন্যরা। কিন্তু আজকে এসে তারা আবার সময় চাচ্ছেন।

“সিটিসেলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ৫ মাসের বেতন এবং দুটি বোনাস বাকি রয়েছে। আমরা আমাদের পাওনা পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে যাব।”

আগে তিন দফা সময় নিয়েও প্রতিশ্রুতি না রাখায় নতুন করে এক মাস সময় দিতে রাজি নন তারা।

“ঢাকা শহরে কেউ যদি ৫ মাস বেতন না পায়, তাহলে সে কীভাবে চলতে পারে! আমাদের পক্ষে আর একদিনও সময় দেওয়া সম্ভব নয়,” বলেন মাহজাবিন।

মঙ্গলবার রাত ১০টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট চালিয়ে পরদিন থেকে অনশন কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা আছে সিটিসেল কর্মীদের।

মাহাজাবিন বলেন, “আমরা কাল থেকে সিটিসেল প্রাঙ্গণেই অনশন শুরু করব। এরপর বাইরে যেখানে জায়গা পাই সেখানে যাব।”

সিইওসহ বড় কর্মকর্তারা অবরুদ্ধ কি না- এ প্রশ্নে মাহজাবিন বলেন, “সেভাবে অবরুদ্ধ আমরা বলছি না। আমরা তাদের কক্ষের সামনে অবস্থান করছি। এখন তারা যদি আমাদের এ অবস্থানের ‍উপর দিয়ে চলে যেতে পারেন, তাহলে বের হতে পারেন।”

ভবনের ১২ তলায় অবস্থান ধর্মঘটস্থলে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার ছিল না। ধর্মঘটীদের সঙ্গে কথা বলে উপরের অবস্থার কিছুটা চিত্র পাওয়া যায়।

সিটিসেলের উপ-ব‌্যবস্থাপক মো. হাসান মাহমুদ আলী জানান, শ’খানেক কর্মকর্তা-কর্মচারি অবস্থান কর্মসূচিতে আছেন।

“সিইও ছাড়া অবরুদ্ধদের মধ্যে রয়েছেন চিফ টেকনিক্যাল অফিসার মাহফুজুর রহমান, চিফ ফিন্যান্সিয়াল অফিসার তারিকুল হাসান ও কমার্শিয়াল কম্পট্রোলার জিয়াউর রহমান।”

বিটিআরসির পাওনা পৌনে পাঁচশ কোটি টাকা না দেওয়ায় গত ২১ অক্টোবর সিটিসেলের তরঙ্গ বন্ধ করে দেওয়া হয়। দেনা পরিশোধের প্রতিশ্রুতিতে আদালতের নির্দেশে ১৭ দিন পর সিটিসেলের সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

তবে আপিল বিভাগের আদেশে বলা হয়, আগামী ১৯ নভেম্বরের মধ্যে সিটিসেল বকেয়ার ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ না করলে আবারও তরঙ্গ বন্ধ করে দিতে পারবে বিটিআরসি।

অর্থ সঙ্কটের মধ‌্যে কাজ শুরু করলেও ধুকছে বাংলাদেশের প্রথম মোবাইল ফোন অপারেটর সিটিসেল।

এই কোম্পানির ৩৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ শেয়ারের মালিক বিএনপি নেতা ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খানের প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেড। সিঙ্গাপুরের সিংটেলের হাতে আছে ৪৫ শতাংশ শেয়ার। এছাড়া ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড ১৭ দশমিক ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *