চলে গেলেন সাম্যবাদী বিপ্লবীদের নেতা ফিদেল আলেসান্দ্রো কাস্ত্রো রুজ (ফিদেল কাস্ত্রো)। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী এই নেতা স্থানীয় সময় শুক্রবার কিউভার হাভানায় ৯০ বছর বয়সে মারা যান।
সদ্য প্রয়াত কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও কমিউনিস্ট বিপ্লবের কিংবদন্তী নেতা ফিদেল কাস্ত্রো বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হিমালয়ের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। ১৯৭৩ সালে আলজিয়ার্সে জোটবহির্ভূত দেশগুলোর এক বৈঠকের পর কাস্ত্রো এ কথা বলেছিলেন।
ফিদেল কাস্ত্রো বলেছিলেন, আমি হিমালয় দেখিনি। কিন্তু আমি শেখ মুজিবকে দেখেছি। ব্যক্তিত্ব ও সাহসিকতায়, এই মানুষই হিমালয়। তাই আমার হিমালয় দেখা হয়ে গেলো।
ফিদেল কাস্ত্রো একজন কিউবান রাজনৈতিক নেতা ও সমাজতন্ত্রী বিপ্লবী। কিউবা বিপ্লবের প্রধান নেতা ফিদেল ১৯৫৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কিউবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
এরপর ৩০ বছর কিউবার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০০৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান তিনি। মূলতঃ ২০০৬ সালে অন্ত্রাশয়ে রক্তক্ষরণের ঘটনায় জরুরি অস্ত্রোপচারের পর থেকেই লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান ফিদেল কাস্ত্রো।
নিজের ৯০তম জন্মদিনে চলতি বছরের আগস্টে সর্বশেষ জনসম্মুখে এসেছিলেন ফিদেল কাস্ত্রো। হাভানার কার্ল মার্কস থিয়েটারে জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নেন তিনি।
তবে এই বিপ্লবীর কণ্ঠে মানুষ সর্বশেষ ভাষণ শুনেছেন চলতি বছরের এপ্রিলে, কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে। তারও আগস্টে জানুয়ারিতে রাজধানী হাভানায় একটি আর্ট স্টুডিওর উদ্বোধনীয় অনুষ্ঠানে তাকে অংশ নিতে দেখা যায়।
এরপর ফেব্রুয়ারিতে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন কাস্ত্রোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বলা হয়েছিল, বিপ্লবী ফিদেল আধ্যাত্মিকভাব সচেতন এবং শারীরিকভাবে অত্যন্ত সবল আছেন। সর্বশেষ গত গ্রীষ্মে ফিদেলের সঙ্গে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমিরি পুতিন এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সাক্ষাৎ করেন।
বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে কাস্ত্রোর এ কথা বাংলাদেশের মানুষ আজীবন মনে রাখবে। শুধু তাই নয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধেও অসামান্য ভূমিকা ছিলো কিউবার বিপ্লবী এ নেতার। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে শ্রদ্ধা জানাতে জাতির জনকের কন্যা ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাস্ত্রোকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় ভূষিত করেছেন। ২০১৩ সালে ‘মুক্তিযুদ্ধ মৈত্রী সম্মাননা’ প্রদান করা হয় কাস্ত্রোকে।
এছাড়া মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী সময় ও বিভিন্ন দুর্যোগেও বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন এই নেতা। সেই কারণে বাংলাদেশ আজীবন শ্রদ্ধা জানাবে কিউবার সাবেক এ নেতার প্রতি।
ফিদেল কাস্ত্রো কিউবা কমিউনিস্ট দলের প্রধান হিসেবে ১৯৬১ সালে দলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ছিলেন। এর আগে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ২০০৮ সালে তিনি তার দায়িত্ব ভাই রাউল কাস্ত্রোর কাছে অর্পণ করেছিলেন। রাউল বর্তমানে কমিউনিস্ট পার্টির সহকারী প্রধান এবং মন্ত্রী পরিষদের প্রধান হিসেবে আছেন। এর আগে তিনি ১৯৫৯-২০০৮ পর্যন্ত ফিদেলের মন্ত্রী সভায় প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে কাজ করেছেন।


