নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন (নাসিক) নির্বাচন সামনে রেখে সবগুলো ভোটকেন্দ্রকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন উল্লেখ করে আসন্ন ভোটে সেনা মোতায়েন জরুরি বলে জোরালোভাবে দাবি তুলেছে বিএনপি।
সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জোরালোভাবে এই দাবি ফের তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “নারায়ণগঞ্জের রিটার্নিং অফিসার বলেছেন, কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত সবগুলো ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। সিটি নির্বাচনের একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তা যদি এই রকম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, তাহলে ভোটারদের মধ্যে নিশ্চয়ই উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাবে।
“আমরা বলতে চাই, ভোটারদের ভীতিহীনভাবে ভোট প্রদান ও তাদের জানমালের নিরাপত্তার জন্য নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন যে কত জরুরি সেটা রিটার্নিং অফিসারের কথাতেই পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।”
আগামী ২২ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে ভোট হবে। প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সেলিনা হায়াৎ আইভী ও বিএনপির পক্ষে অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান লড়বেন।
নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রিজভী বলেন, “নারায়ণগঞ্জ এমন একটি শহর, যেখানে আওয়ামী লীগের সশস্ত্র ক্যাডাররা বেসরকারি দারোগার ভূমিকা পালন করে। সেখানে কথায় কথায় অস্ত্র প্রদর্শন, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ ও খুনখারাবি নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার।
“সেখানে শাসক দলের উদ্ধত, বেপরোয়া ক্যাডারদের ভয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিস্তেজ হয়ে পড়ে অথবা তাদের (আইনশৃঙ্খলা বাহিনী) অভ্যন্তরে শাসকদলের সমর্থিত কর্মকর্তাদের নির্বাচনী কাজে লাগানো হয়। আর নির্বাচনী সন্ত্রাস মোকাবিলায় নির্বাচন কমিশন পিঠে ধাক্কা খাওয়ার ভয়ে এক পা এগুতে চান না।”
বিচারবর্হিভূত হত্যার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, “বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুম, খুনের মাত্রা দেখলে মনে হয়, বাংলাদেশের মানুষেরা যেন সব অন্ধকারের জীব। এই সরকার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিরোধী দল দমনে এমন ন্যাক্কারজনকভাবে ব্যবহার করেছে যে, এই প্রতিষ্ঠানগুলো এখন ভাড়াটিয়া বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।”
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া ডিগ্রি কলেজ জাতীয়করণের দাবির আন্দোলনে ‘পুলিশের বেপরোয়া হামলা ও গুলিবর্ষণের’ নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে এর বিচার দাবি করেন রিজভী।
ওই ঘটনায় নিহতদের প্রতি শোক প্রকাশ করে তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানান তিনি।
বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যক্ষ সেলিম ভুঁইয়া, ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, আবদুস সালাম আজাদ, মুনির হোসেন ও আমিরুল ইসলাম খান আলিম সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।


