গত আট বছরে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের আয় বেড়েছে ৮৩ লাখ টাকা। সোমবার সচিবালয়ে অনলাইনে তার আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় এ তথ্য জানান অর্থমন্ত্রী।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান ও কর অঞ্চল-৮ এর কমিশনার আবু তাহেরসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী তার ২০১৫-১৬ আয়বর্ষের জন্য ২ লাখ ১২ হাজার ৬১১ টাকার আয়কর রিটার্ন অনলাইনে জমা দেন।
অর্থমন্ত্রী গত ২০১৪-১৫ আয়বর্ষে আয়কর দিয়েছিলেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৫৩৩ টাকা। তার আট বছরে আয় ৮৩ লাখ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ কোটি ৩ লাখ ৪২ হাজার ৭৪০ টাকা। আর নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ৪১ হাজার ৮৬ টাকা।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তিশ্রেণীর আয়কর বিবরণী বা রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ নভেম্বর। এ সময় আর বাড়ানো হবে না। কোনো কারণে যারা এদিন রাত ৮টার মধ্যে রিটার্ন জমা দিতে ব্যর্থ হবেন, তাদের নির্ধারিত করের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হবে। তবে বিশেষ কারণ দেখিয়ে সময় বাড়ানোর সুযোগ থাকবে।
অন্য মন্ত্রীরা আপনার মতো জনসম্মুখে আয়কর দেন কিনা জানতে চাইলে মুহিত বলেন, জনসম্মুখে দেন কিনা জানা নেই। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ বৈঠকে কখনো বলেছিলেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রথমবার বলেছিলাম কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় আর বলব না। কারণ এটা যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। তবে একমাত্র প্রধানমন্ত্রী অন্য মন্ত্রীদের আয় এবং তাদের সম্পদ সম্পর্কে জানতে চাইতে পারেন।
সম্প্রতিককালে রূপালি ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি দুঃখজনক। পরিচালনা পর্ষদের কিছু কিছু পরিচালকের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে। আগে রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকগুলোতে পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হতো; সেখান থেকে সরে এসে এ খাতে অভিজ্ঞদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে এ ধরনের কেলেঙ্কারি কমে আসবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের কেলেঙ্কারি সব দেশেই হয়। ধনী দেশগুলোতে আরো বেশি হয়।
উল্লেখ্য, কোনো বাছবিচার ছাড়াই রূপালী ব্যাংক ফেনীর এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে ১৫১ কোটি টাকার ঋণ সুবিধা দেওয়াসংক্রান্ত প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে অর্থমন্ত্রী একথা বলেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই স্বর্ণ ব্যবসায়ীর পুরো ঋণের মধ্যে ৬০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন দিয়েছে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। বাকি ঋণের মধ্যে ৭৩ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই। এর কোনো নথিও এখন পাওয়া যাচ্ছে না।


