বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নরসিংদীতে শ্রমিক হত্যায় ৬ জনের ফাঁসির আদেশ

নরসিংদীতে শ্রমিক হত্যায় ৬ জনের ফাঁসির আদেশনরসিংদীর বরফ কল শ্রমিক আইয়ুব হত্যা মামলায় ছয় আসামির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া লাশ গুম করার অপরাধে প্রত্যেক আসামিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডও দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদীর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ শাহিন উদ্দিন এ আদেশ দেন।

আসামিরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার রামনাথপুর দক্ষিণ পাড়ার লাল উদ্দিন মোল্লার ছেলে সুজন ওরফে বাঘা সুজন, নরসিংদীর পশ্চিম কান্দাপাড়া শীতল চন্দ্র দাসের ছেলে সোহাগ চন্দ্র দাস, চাঁদপুর জেলার মতলব থানার আমাকান্দা গ্রামের মৃত সাদেক মিয়ার ছেলে এরশাদ, নরসিংদীর বৌয়াকুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে সাদ্দাম, একই এলাকার সুধীর চন্দ্র দাসের ছেলে সমীর চন্দ্র দাস ও বৌয়াকুরের কালাচাঁনের ছেলে বিমল। বর্তমানে সব আসামি পলাতক রয়েছে।

মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, নরসিংদী শহরের বৌয়াকুড়স্থ মোসলেহ উদ্দিন সুপার মার্কেটের একটি বরফ কলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ময়মনসিংহের সুজন। কাজে ফাঁকি দেওয়ায় তার চাকরি চলে গেলে সুজনের স্থলে নতুন শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ পান শহরের বৌয়াকুড় মহল্লার আইয়ুব। এ নিয়ে আইয়ুবের ওপর ক্ষিপ্ত হয় চাকরিচ্যুত সুজন। এরই জেরে ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট সুজন মোবাইলে ফোন করে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে আইয়ুবকে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আইয়ুবের সন্ধান পাননি। তিনদিন পর ১ সেপ্টেম্বর সদর উপজেলার ধামেরভাওলা এলাকায় মেঘনা নদীতে আইয়ুবের মাথাবিহীন গলিত মরদেহ পাওয়া যায়।

মরদেহ শনাক্তের পর নিহত আইয়ুবের বাবা আব্দুল হেকিম সরকার বাদী হয়ে নরসিংদী সদর থানায় সুজনকে প্রধান আসামি করে ছয়জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নরসিংদী ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) ইমাম হোসেন তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত আসামিদের মধ্যে চারজনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি ও ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে প্রত্যেককে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন। সেই সাথে তাদের ১০ হাজার টাকা করে অর্থ দণ্ডে দণ্ডিত করা হয়।

অপরদিকে প্রত্যেককে লাশ গুম করার অপরাধে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন এপিপি মো.অলি উল্লাহ।

আরও পড়ুন