বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের রায় ১৬ জানুয়ারি

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের রায় ১৬ জানুয়ারিনারায়ণগঞ্জের চাঞ্চল্যকর সাত খুন মামলার রায় আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারি ঘোষণা করা হবে। আসামিদের সবার যুক্তিতর্ক শেষে বুধবার দুপুরে এ দিন ঠিক করেন আদালত।

নারায়ণগঞ্জ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, সাত খুনের দুটি মামলায় গ্রেফতারকৃত ২৩ ও পলাতক ১২ আসামির সবার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। পরে আদালত আগামী ১৬ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ ও বাদীপক্ষের আইনজীবী আশা করেন, আসামিদের সর্বোচ্ছ সাজা হবে। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন জানান, বুধবার ৭ খুনের দুটি মামলায় প্রধান আসামি নূর হোসেনের র‌্যাবের চাকুরিচ্যুত তিন কর্মকর্তা লেফটেনেন্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, মেজর আরিফ হোসেন ও লেফটেনেন্ট কমান্ডার এম এম রানাসহ ২৩ আসামির উপস্থিতিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে আদালত আগামি ১৬ জানুয়ারি রায়ের দিন ধার্য করেন।

তিনি জানান, সকাল সাড়ে ৯টায় জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেনের আদালতে শেষদিনের মতো এই যুক্তিতর্ক শুরু হয়। র‌্যাবের সাবেক কর্মকর্তা এম এম রানা, বজলুর রহমান ও আসাদুজ্জামানের পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক সম্পন্ন করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শেষে আদালতের কাছে আসামিদের রশিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আবেদন করেন। রায়ের তারিখ নির্ধারণের পর আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মামলার বাদী নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বলেন, আদালতে সাত খুনের বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। তাই তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। তিনি খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে বলে আশাবাদী।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী সুলতানুজ্জামানের দাবি, আসামিদের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি। তিনি বলেন, আসামিরা অবশ্যই ন্যায় বিচার পাবেন।

জেলা পুলিশ সুপার মঈনুল হক বলেন, সাত খুনের ঘটনায় পৃথক দুটি মামলায় ৩৫ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে র‌্যাবের ৮ সদস্যসহ ১২ জন পলাতক রয়েছে। তবে পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানান।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের ফতুল্লা থেকে অপহৃত হন নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম ও তার চার সঙ্গী। একইসঙ্গে অপহৃত হন সিনিয়র আইনজীবী চন্দন সরকার  তার গাড়ির চালক। এর তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ফতুল্লা ও সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় পৃথক দুটি মামলা হয়।

আরও পড়ুন