বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

‘বিয়ের বয়স শিথিলের আইন আটকান’

‘বিয়ের বয়স শিথিলের আইন আটকান’বিশেষ ক্ষেত্রে মেয়েদের বয়স সীমা শিথিলের সুযোগ রেখে ‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন’পাস না করতে বাংলাদেশের আইনপ্রণেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ(এইচআরডব্লিউ)।

‘বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৬’-এর খসড়া গত ২৪ নভেম্বর অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এতে মেয়েদের বিয়ের ন্যূনতম বয়স ১৮ বছর রাখা হলেও বিশেষ ক্ষেত্রে যেকোনো অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের সর্বোত্তম স্বার্থে আদালতের নির্দেশে এবং মা-বাবার সম্মতিতে বিয়ে হতে পারবে বলে বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে।

বিয়ের বয়স শিথিল রেখে এই আইনটি পাস না করতে বাংলাদেশ সংসদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার সংস্থাটির নারী অধিকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ গবেষক হেদার বার এই আহ্বান জানান। তার আহ্বানটি এইচআরডব্লিউর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খসড়াটি পাস হয়ে আইনে পরিণত হলে তা বাংলাদেশের মেয়েদের বাল্যবিবাহের বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলবে। এটা বাংলাদেশকে অনেকটা পিছিয়ে দেবে।

খসড়া আইনে বাল্যবিবাহে বন্ধে ‘কঠোর’ শাস্তির কথা বলা হলেও অপ্রাপ্তবয়স্করা বিয়ে করলে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের আটকাদেশ বা পাঁচ হাজার টাকা জরিমানার বিধানকে যথেষ্ট বলে মনে করছে না এইচআরডব্লিউ।

হেদার বার বলছেন, এই আইন পাস হলে ওই ১৫ দিনের আটকাদেশের মধ্য দিয়েই কিছু বাল্যবিয়ে বৈধতা পেয়ে যাবে, যা বর্তমান আইনের চেয়েও বড় দুর্বলতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, আইন শিথিল করা হলে বাল্য বিয়ে বন্ধের লড়াইয়ের পথে তা হবে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। এই আইন সারা দেশে অভিভাবকদের এই বার্তা দেবে যে, অন্তত কিছু ক্ষেত্রে সরকার বাল্য বিয়েকে যৌক্তিক মনে করছে।

এইচআরডব্লিউর এই আহ্বানে উল্লেখ করা হয়, বিশ্বে এবং এশিয়ায় বাল্যবিবাহপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এখানে বয়স ১৮তে পড়ার আগেই ৫২ শতাংশ মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। এমনকি বয়স ১৫ হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যায় ১৮ শতাংশ মেয়ের।

নতুন আইনের খসড়ায় ২১ বছরের কম বয়সী ছেলে ও ১৮ বছরের কম বয়সী মেয়েদের ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক’ বলা হলেও আইন শিথিলের সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটে ক্ষেত্রে ন্যূনতম কোনো বয়সের কথা বলা হয়নি।

আরও পড়ুন