বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশী যুবককে পিটিয়ে মারল ভারতীয়রা

বাংলাদেশী যুবককে পিটিয়ে মারল ভারতীয়রাসুনামগঞ্জ সীমান্তের ওপারে বাংলাদেশী এক যুবককে রাতের আঁধারে পিটিয়ে হত্যা করেছে ভারতীয়রা। নিহতের নাম বশির আহমেদ (৩৫)। তিনি তাহিরপুর উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের পাহাড়তলী রজনীলাইন গ্রামের মৃত শুক্কুর আলীর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, বশির কাজের সন্ধানে সীমান্তের ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনে রোববার রাতে অনুপ্রবেশ করে। সেখানকার ভারতীয় নাগরিকরা চোর সন্দেহে রাতের কোনো একসময় বশিরকে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে।

পরবর্তীতে বশিরের লাশ ভারতীয় বড়ছড়া থানার সামনে ফেলে রাখে তারা। খবর পেয়ে নিহতের স্বজন ও উৎসুক জনতা সোমবার ভোর থেকেই বড়ছড়া শুল্ক ষ্টেশনের এপারে ভীড় জমায়।

নিহতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য ওপারের বড়ছড়া থানার সামনে গিয়ে লাশ শনাক্ত করে এপারে ফিরে আসেন।

এদিকে নিহতের পরিবারের লোকজন সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ট্যাকেরঘাট কোম্পানি হেডকোয়ার্টারে সকালে গিয়ে লাশ ফেরত আনতে বিজিবির শরণাপন্ন হন।

উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কাসেম ও ২নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সিদ্দিক মিয়া বলেন, বশির চোর নয়, হয়ত কাজের সন্ধানে ওপারে গিয়েছিলো। সে অপরাধী হলে ভারতের আদালতেও বিচার হতে পারত কিংবা বিজিবির মাধ্যমে বাংলাদেশে ফেরত দিলে এদেশের আদালতেও তার অপরাধের বিচার হতো। কিন্তু তাকে পিটিয়ে মারার অধিকার তো কারো নেই।

সুনামগঞ্জ-২৮ বর্ডারগার্ড ব্যাটালিয়নের বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর মো. মাহবুব হাসান সীমান্তের ওপারে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন।

তিনি বলেন, আমি বিএসএফের সাথে যোগাযোগ করেছি, ওখানে বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার রয়েছে, পতাকা বৈঠক আহবান করা হয়েছে, লাশ ফেরত আনার জন্য বিজিবির পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শুনেছি ভারতীয় নাগরিকরা চোর সন্দেহে বশির নামক ওই যুবককে রোববার রাতে গণপিটুনি দেয়ার এক পর্যায়ে সে মারা যায়।

আরও পড়ুন