ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সহ-সভাপতি আবু তাহের আহমেদের ছেলে তারেক আহমেদ অনিক। একজন ডিজে (ডিস্কো জকি) থেকে তিনি এখন অস্ত্র চালান মামলার মূল পলাতক আসামি।
সোমবার দুপুরে র্যাব-১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তুহিন মো. মাসুদ রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে অনিক সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, রাজধানীর বাড্ডা ও আবদুল্লাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে অনিকের ৫ সহযোগীকে গ্রেফতার করা হলেও অনিক পালিয়ে গেছেন।
তুহিন মো. মাসুদ জানান, উত্তর বাড্ডার জিএম বাড়ির স্বচ্ছল পরিবারের সন্তান অনিক। ঢাকার মানারাত স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র অনিক পেশায় একজন ডিজে। এই পেশায় জড়ানোর পর তিনি মাদক এবং নারীর সান্নিধ্যে আসেন।
মাদকাসক্ত হওয়ার পর তিনি নিজেই মাদক ব্যবসা শুরু করেন। অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বাড্ডা এলাকায় মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। মোটা অংকের অবৈধ টাকার মালিকও বনে যান অনিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাদক সামাজ্য নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনি অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার শুরু করেন। অবৈধ অস্ত্র কেনার সূত্র ধরে বিভিন্ন অবৈধ অস্ত্র ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
ধীরে ধীরে তিনি মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অস্ত্র ব্যবসায়েও জডিয়ে পড়েন। ঢাকাসহ আশেপাশের এলাকায় অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ সরবরাহ করতে থাকেন। খাবার পানির ব্যবসার সঙ্গেও জড়িত অনিক।
তার অন্যতম সহযোগী পলাতক আসামি বাদশা পেশায় নাম মাত্র ইলেকট্রিশিয়ান। তিনি মূলত অনিকের অবৈধ অস্ত্রের চালান সংগ্রহ এবং ক্রেতার কাছে পৌঁছে দেয়ার কাজ করতেন।
র্যাব অধিনায়ক জানান, পলাতক আসামি বাদশা অবৈধ অস্ত্রের চালানগুলো সংগ্রহ করে অনিকের সহযোগী আরিফুল ইসলাম আরিফ ওরফে পানি আরিফের বাসায় লুকিয়ে রাখতেন। পানি আরিফ অনিকের খাবারের পানির ব্যবসার কাজে নিয়োজিত ছিলেন।
র্যাব জানায়, ধূর্ত অনিকের ১৫-২০ জন সহযোগী রয়েছে। যাদের মধ্যে মেহেদী, শাওন, রনি, মতিন ও বাবু, উল্লেখযোগ্য। অনিক এরই মধ্যে ৪৫-৫০টি অবৈধ বিদেশী পিস্তল ঢাকা শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রয় করেছেন।
অনিকের সহযোগী রুবেল পেশায় একজন গাড়িচালক। তিনি গত ২-৩ বছর ধরে অস্ত্র ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন। রুবেল রাজশাহীর প্রত্যন্ত এলাকা অস্ত্র সংগ্রহ করত। এ কাজে তার সহায়তা করতেন সোহেল মোল্লা ও বাহেস শেখ।
তারা তাদের মহাজনের খালি পিকআপ ভ্যান নিয়ে রাজশাহীতে যেতেন। সেখান থেকে অস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করতেন। গাড়ির বিভিন্ন জায়গায় নিত্যনতুন কৌশলে লুকিয়ে অস্ত্রগুলো তারা দেশের বিভিন্নস্থানে সরবারহ করতেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তুহিন মো. মাসুদ বলেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত থাকার পাশাপাশি আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সোর্স হিসেবে পরিচয় দিতেন অনিক।
সীমান্ত থেকে ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় অস্ত্র কিনে অনিক রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিটি অস্ত্র ৭৫ হাজার টাকা থেকে এক লাখ টাকায়ও বিক্রি করেন।


