বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বিদ্যুৎ-জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীরসরকারের আট বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উৎপাদন বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে এর ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার রাজধানীর ইন্টান্যাশনাল কনভেনশন সেন্টার বসুন্ধরায় জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ ২০১৬ এর উদ্বোধীন অনুষ্ঠানে এ আহ্বান জানান তিনি।

সরকারপ্রধান বলেন, অনেক কষ্ট করেই কিন্তু আজকে আমরা এ জায়গায় এসেছি। কাজেই এখানে সবাই একটু সাশ্রয়ী হবেন- এ আহ্বান জানাব।

দৈনন্দিন কাজে নানাভাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানির অপচয় হচ্ছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমরা কিন্তু অনেকভাবে বিদ্যুতের অপব্যবহার করি। কাজেই এই ক্ষেত্রে আমি চাই- অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে সকলের যেমন স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বা অফিস-আদালত, সর্বক্ষেত্রেই আপনারা যদি একটু সাশ্রয়ী মনোভাব নেন, সবাই যেন একটু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হন।

কারণ উৎপাদনে যথেষ্ট খরচ হয়। বিদ্যুতের অপব্যবহার যেন না হয়। প্রত্যেকের মাঝে এই মানসিকতা থাকতে হবে যে, বিদ্যুৎটা আমারই সম্পদ, আমি এটাকে রক্ষা করি বা সাশ্রয় করি। কাজেই সেই সাশ্রয় করার জন্য আমি সবাইকে আহ্বান জানাচ্ছি।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী ঘর থেকে বের হওয়ার সময় নিজেই লাইট বন্ধ করেন জানিয়ে বলেন, নিজের কাজ নিজে করতে লজ্জার কিছু নেই। জাতীয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সপ্তাহ জনগণকে এসবের অপচয় রোধসহ সাশ্রয়ী ব্যবহারে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গত আট বছরে দেশে বিদ্যুতের উৎপাদন প্রায় তিনগুণ বেড়ে প্রায় ৯ হাজার মেগাওয়াটে পৌঁছেছে। এ সময়ে প্রায় ৮০টি নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হওয়ায় উৎপাদন ক্ষমতা বেড়ে হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার মেগাওয়াট।

২০০৮ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ছিল ৪৭ শতাংশ, যা গত আট বছরে এক কোটি ১৪ লাখ নতুন সংযোগের মাধ্যমে ৭৮ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। মাথাপিছু বিদ্যুতের ব্যবহার ঘণ্টায় ২২০ কিলোওয়াট থেকে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে ঘণ্টায় ৪০৭ কিলোওয়াট হয়েছে। বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস ১৫ দশমিক ৬৭ শতাংশ থেকে ১০ দশমিক ৯৬ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রধানমন্ত্রী বিদ্যুৎ উৎপাদনে বহুমুখী জ্বালানির ব্যবহারে সরকারে পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় ২০২১ সালের মধ্যে ২৪ হাজার মেগাওয়াট, ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ৬০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন