উত্তরাঞ্চলীয় জেলা গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লিগের সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনকে বাড়িতে ঢুকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছে অজ্ঞাত দুষ্কৃতীরা।
শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে সর্বানন্দ ইউনিয়নের শাহাবাজ এলাকায় নিজের বাড়িতে হামলার শিকার লিটনকে সঙ্গে সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।
কারা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। হামলাকারীদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যদিও লিটনের দল আওয়ামী লিগের কেন্দ্রীয় নেতারা হত্যাকাণ্ডের জন্য মৌলবাদী দল জামায়াতে ইসলামিকে সন্দেহ করছেন।
আওয়ামী লিগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ বলেন, “তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলব না। তবে প্রাথমিকভাবে যুদ্ধাপরাধী জামাত-শিবিরকে সন্দেহ করা হচ্ছে। কারণ উনি যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন।”
দলের সংসদ সদস্য লিটন হত্যাকাণ্ডে শোক প্রকাশ করে খুনিদের গ্রেপ্তারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আতিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজ এলাকায় নিজের বাড়িতে গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর সংসদ সদস্য লিটনকে সঙ্গে সঙ্গে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. বিমল চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের জানান, এমপি লিটনকে বাঁচানোর চেষ্টায় সফল হননি তারা। লিটনের বুকের বাম দিকে দুটো এবং বাম হাতে একটি গুলি লেগেছিল বলে এই চিকিৎসক জানান।
এই সংসদ সদস্যের স্ত্রী সৈয়দা খুরশিদ জাহান স্মৃতি বলেন, “মাগরিবের নামাজের পরপর মোটর সাইকেলে অজ্ঞাতপরিচয় তিন যুবক বাড়িতে ঢুকে গুলি করে পালিয়ে যায়। সন্ধ্যায় মোটর সাইকেলে পাঁচ যুবক আসেন। এদের মধ্যে তিনজন ঘরে ঢুকে ওর সঙ্গে কথা বলতে না বলতেই এলোপাতাড়ি গুলি করে চলে যায়।”
২০০৫ সালে হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগের শাহ এএমএস কিবরিয়াকে হত্যার এক দশক পর কোনো সংসদ সদস্য হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। ৪৮ বছর বয়সী লিটন এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এক শিশুকে গুলি করে দেশজুড়ে সমালোচিত হওয়ার এক বছরের মধ্যে নিজেই গুলিতে প্রাণ হারালেন লিটন। শিশু শাহাদাত হোসেন সৌরভকে গুলি করার মামলায় গত বছর গ্রেপ্তার হয়ে কিছুদিন কারাগারে থেকে জামিনে ছাড়া পান তিনি।


