বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

ফাঁসির রায়ের আগে হাসিখুশি, পরে বিচলিত নূর-সাঈদ

নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের দুই মামলায় প্রধান আসামি নূর হোসেন ও র‍্যাবের তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন।

সোমবার সকালে আদালতে হাজির করার সময় প্রধান আসামি নূর হোসেন ও তারেক সাঈদ বেশ হাসিখুশি ছিলেন। এজলাসেও এ দুই আসামিকে বেশ নির্ভার দেখা যায়।

তবে সকাল সোয়া ১০টার দিকে ফাঁসির রায় ঘোষণার পর নূর হোসেন ও তারেক সাঈদকে বেশ বিচলিত দেখা যায়। এ ছাড়া এজলাসের সামনে লোহার খাঁচায় অবস্থান করা ২৩ আসামির মধ্যে তিনজন রায় শুনে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এর আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকেই আদালতে প্রবেশ করেন বিচারক। তবে তিনি এজলাসে আসেন সকাল ১০টার দিকে। এর পরপরই রায় পড়া শুরু হয়। মাত্র ১৫ মিনিটেই রায় পড়া শেষ করেন বিচারক।

রায়ে মামলার মোট ৩৫ আসামির মধ্যে নূর হোসেন, তারেক সাঈদসহ মোট ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া নয় বছরের সশ্রম কারাদণ্ড পান বাকি নয় আসামি।

এর আগে সকাল সোয়া ৯টা থেকে পৌনে ১০টার মধ্যে আদালতে নেওয়া হয় মামলার ২৩ আসামিকে। এজলাসের সামনে একটি লোহার খাঁচায় রাখা হয় ২০ আসামিকে। শুধু সামরিক বাহিনীর বরখাস্ত হওয়া তিন কর্মকর্তাকে এজলাসের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়।

রায় পড়ার পুরো সময় নূর হোসেন ও তারেক সাঈদকে হাসিখুশি দেখা যায়। তবে রায় ঘোষণার পরপরই কিছুটা বিচলিত দেখা যায় তাঁদের।

রায় ঘোষণার সময় দুই পক্ষের আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পরিপূর্ণ ছিল আদালত। এ ছাড়া গোটা আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়োজিত ছিলেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের পাশ থেকে নাসিকের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তাঁর সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তাঁর গাড়িচালক ইব্রাহীমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১।

পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুলের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল পৃথক দুটি মামলা করেন।

হত্যাকাণ্ডের ১১ মাস পর ২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জের আদালতে ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেলা  গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মামুনুর রশিদ মণ্ডল।

এরপর বিভিন্ন সময়ে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পলাতক থাকেন ১৩ জন।

এর মধ্যে ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর নূর হোসেনকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর ১৩ নভেম্বর সাত খুনের দুটি মামলাসহ ১১ মামলায় পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার দেখায়। ফলে গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়ায় ২৩-এ। সাত খুনের মামলায় হত্যার দায় স্বীকার করে র‌্যাবের ১৭ জনসহ ২২ জন এবং  ঘটনার সাক্ষী হিসেবে র‌্যাব সদস্যসহ ১৭ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

কিন্তু পরবর্তী সময়ে অভিযোগপত্র থেকে পাঁচ আসামিকে বাদ দেওয়ায় এবং প্রধান আসামি নূর হোসেনের জবানবন্দি ছাড়া আদালত অভিযোগপত্র আমলে নেওয়ায় ‘নারাজি’ আবেদন করেন  সেলিনা ইসলাম বিউটি। আবেদনটি নারায়ণগঞ্জ বিচারিক হাকিম ও জজ  কোর্টে খারিজ হয়ে গেলে বিউটি উচ্চ আদালতে যান।

হাইকোর্টের আদেশে বলা হয়, পুলিশ চাইলে মামলাটির ‘অধিকতর তদন্ত’ করতে পারে এবং ‘হত্যার ষড়যন্ত্র ও পরিকল্পনার’ধারা যুক্ত করে নতুন করে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারে। তবে তদন্তকারী সংস্থা জানায়, তাদের অভিযোগপত্র ‘নির্ভুল ও চমৎকার’।

আরও পড়ুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *