বুধবার ৪ নভেম্বর ২০২৬

দেশের সব ‘ভাস্কর্য’ অপসারন চায় হেফাজত: এবার শুরু আসল খেলা

pm_10_11-04-2017_kallol-pix-copy

আমরা চাই ‘ভাস্কর্য’র নামে যতগুলো ‘মূর্তি’ আছে তা অপসারণ করা হোক এবং ভবিষ্যতে কোনও ‘মূর্তি’ স্থাপিত না হয়…

সুপ্রিম কোর্টের ‘ভাস্কর্য’কে প্রধানমন্ত্রী ‘মূর্তি’ হিসেবে অভিহিত করে নিজেও সেই মূর্তির সরানোর পক্ষে বলে প্রকাশ্যে মন্তব্যের পরদিনই হেফাজতের তরফ থেকে বলা হয়েছে- সারাদেশের সব ভাস্কর্য নামের যত মূর্তি আছে সব অপসারন করতে হবে।”

পাশাপাশি ভবিষ্যতেও দেশে যেন আর কোন ‘মূর্তি’ স্থাপিত না হয় সে ব্যাপারেও উদ্যোগ নেয়ার দাবি করেছে সংগঠনটি।

১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালে রাজধানীর শাপলা চত্বরে অবস্থান নিয়ে রাজধানী অবরোধ করেছিল হেফাজতে ইসলাম। সেই দাবিগুলোর মধ্যে ৭ নম্বর দাবি ছিল, “মসজিদের নগর ঢাকাকে মূর্তির নগরে রূপান্তর এবং দেশব্যাপী রাস্তার মোড়ে ও কলেজ-ভার্সিটিতে ভাস্কর্যের নামে মূর্তি স্থাপন বন্ধ করা”।

সেই অবরোধে সহিংসতার এক পর্যায়ে সেদিন গভীর রাতেই সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে তাদেরকে বিতাড়িত করেছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বুধবার চ্যানেল আই অনলাইনকে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেছেন, ‘হাইকোর্টের সামনের মূর্তির ব্যাপারে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে নির্দিষ্টভাবে বলেছি। তিনি তা অপসারণের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরা চাই ভবিষ্যতে ‘ভাস্কর্য’র নামে কোন ‘মূর্তি’ স্থাপিত না হয় এবং যতগুলো ‘মূর্তি’ আছে তা অপসারণ করা হোক।’

তিনি বলেন, “এ দাবি এর আগে প্রধানমন্ত্রীকে দেওয়া স্মারকলিপিতেও আমরা জানিয়েছি এবং গত মঙ্গলবার আমাদের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ প্রধানমন্ত্রীর সামনে এমন বক্তব্য উপস্থাপণও করেছেন।”

‘মূর্তি’ অপসারণের আশ্বাস দিয়ে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন জানিয়ে হেফাজতের এই নেতা বলেন, ‘দেশের ৯২ শতাংশ মানুষের ধর্মীয় অনুভুতিকে হৃদয়ে ধারণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে আমরা আন্তরিক অভিন্দন জানাই।

হেফাজতে ইসলামসহ বিভিন্ন ইসলামী সংগঠনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্টের সামনে থেকে লেডি জাস্টিস’র ভাস্কর্য অপসারণের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে হেফাজতের আমির আহমদ শফীসহ কওমী মাদ্রাসাভিত্তিক তিন শতাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাতে এ আশ্বাস দেন। হেফাজতের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীও সেই রাতের ওই অনুষ্ঠানে ছিলেন।

আরও পড়ুন