২০১৮ সালের ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে হতে যাচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ জন্য নভেম্বরের প্রথম দিকে তফসিল ঘোষণা করাতে যাবতীয় প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
এমনকি এবারে নির্বাচনের আগে শুধু আইন সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একবার সংলাপে বসার চিন্তা করেছে ইসি।
ইসি সূত্র জানিয়েছে, আগামী বছরের ২৮ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার একাদশ সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের প্রাথমিক তারিখ রাখা হচ্ছে। ৪৫ দিন হাতে রেখে ১৫ নভেম্বরের মধ্যে তফিসল দেওয়া হতে পারে।
এ জন্য একটি নির্বাচনী রোডম্যাপও তৈরি করা হয়েছে। আগামী ২৩ মে নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক সভায় এই রোডম্যাপ চূড়ান্ত করা হবে। আর তফসিল ঘোষণার অন্তত তিন মাস আগে (২০১৮ সালের আগস্টের মধ্যে) সব ধরনের কাজ শেষ করার রূপরেখা থাকছে রোডম্যাপে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা জানিয়েছেন ‘সবাইকে নিয়ে আমরা একাদশ সংসদ নির্বাচন করতে চাই। এজন্য ডিসেম্বরে নির্বাচনটা করার প্ল্যান। আর নির্বাচনের কর্মপরিকল্পনা বা রোডম্যাপ ২৩ মে চূড়ান্ত হবে। রোডম্যাপটা হলেই কাজের বিস্তারিত সূচি চূড়ান্ত হয়ে যাবে। এটা একটা বড় কাজ। তার পরই ওই প্ল্যান অনুসারে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি নিতে আমরা কাজ করব। ’
ইসি সূত্র জানিয়েছে, একাদশ সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপে চলতি বছরের জুলাইয়ের মধ্যে রাজনৈতিক দল-সুশীলসমাজ, এনজিও ও সাংবাদিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপ; ডিসেম্বরের মধ্যে ৩০০ সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ করার সময়সীমা রাখা হচ্ছে। এরপর ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারিতে ভোটার তালিকা চূড়ন্ত করা, ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন সম্পন্ন এবং সংসদ নির্বাচনে ব্যবহারের জন্য ডিজিটাল মেশিন প্রস্তুত করার সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে রোডম্যাপে।
রোডম্যাপ বা কর্মপরিকল্পনায় একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র প্রস্তুত করা, মালামাল সংগ্রহ, নির্বাচনী আইন সংশোধনসহ বেশকিছু বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ইসি সচিবালয়।
নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন : অক্টোবরের মধ্যে নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের জন্য আবেদন আহ্বান করা হবে। এজন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেবে ইসি। এরপর ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে আবেদন যাচাই-বাছাই করে নতুন দলের নিবন্ধন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আর নতুন দলের নিবন্ধন শেষ করে একাদশ সংসদ নির্বাচন করার আগে দ্বিতীয় দফায় সব দলের সঙ্গে সংলাপ করার পরিকল্পনাও রয়েছে ইসির।
ভোটার তালিকা প্রস্তুত : ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করে খসড়া প্রস্তুত করবে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ। এরপর ভোটারদের দাবি-আপত্তি শেষ করে ৩১ জানুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ফেব্রুয়ারির মধ্যে ৩০০ আসনের সীমানা অনুযায়ী ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করে তা মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।
ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত : ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারির মধ্যে ডিজিটাল ভোটিং মেশিন প্রস্তুত করা হবে। এরপর তা ব্যবহারের বিষয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার ৩০ দিন আগে প্রচার শুরু করা হবে। এ ছাড়া প্রয়োজনে মকভোটিংয়ের ব্যবস্থাও করবে ইসি।
নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ : একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য ২০১৮ সালের এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে নির্বাচনী মালামাল সংগ্রহ করা হবে। তফসিল ঘোষণার আগে সংগ্রহ করা হবে ব্যালট বক্স, সিল। এ ছাড়া আগস্টের মধ্যে প্রার্থীদের নির্বাচনী এলাকা অনুযায়ী ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করে মাঠপর্যায়ে পাঠানো হবে।


