নিজস্ব প্রতিবেদক: নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন বলেছেন, ‘যেখানে রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম, সেখানে কারও নিরাপত্তা থাকতে পারে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে মুসলমানেরা ভারতে চলে যায়। সুযোগ পেলে অমুসলমানের দেশ ইউরোপ আমেরিকায় চলে যায়। ভারতের মুসলমানও ইউরোপ আমেরিকায় যেতে চায়। তারা কি বাংলাদেশ,পাকিস্তান, সৌদি আরব, ইরাক, আফগানিস্তানে স্থায়ীভাবে বাস করার স্বপ্ন কখনও দেখে? না, মুসলমানেরা চায় না সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানের দেশে বাস করতে। নিরাপত্তার জন্য অধিকাংশই চায় অমুসলমানদের দেশে বাস করতে।’
ভারতের সাবেক উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারির একটি মন্তব্যের সূত্র ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন বিখ্যাত নারীবাদী লেখিকা তসলিমা নাসরিন। গত বুধবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামিদ আনসারি বলেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে একটা অস্বস্তি কাজ করছে। তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। গরুসংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা এবং ঘরে ফেরা (ঘর ওয়াপসি) কর্মসূচির কারণে এ অসহনশীলতা বেড়েছে।’
হামিদ আনসারির এই মন্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে তসলিমা নাসরিন লিখেছেন, ‘ভারতের প্রাক্তন উপরাষ্ট্রপতি হামিদ আনসারি বলেছেন ভারতের মুসলমানরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। যাদের গরুর ব্যবসা, তারা নিশ্চয়ই ভোগে। নিরাপত্তাহীনতায় গরিবরা ভোগে, দালিত এবং আদিবাসিদের অনেকে ভোগে। কিন্তু সমগ্র মুসলমান সম্প্রদায় নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে, তা আমি মনে করি না।’ তিনি লিখেছেন, ‘মুসলমানদের খুশি করার জন্য ভারতের প্রতিটি রাজনৈতিক দল তৎপর। মুসলমানরা ভোট ব্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে স্বাধীনতার পর থেকেই। এদের জন্য সুযোগ সুবিধে প্রচুর।
তসলিমা লেখেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে পুরোহিতদের নয়, পাদ্রিদের নয়, ইমামদের খামোকা টাকা দেওয়া হয় মাসে মাসে। হিন্দুরা মুসলমানের পিঠে কিল দিলে, হিন্দুদের পিঠে দু’কিল বসিয়ে দেওয়ার লোক ওদের মধ্যে আছে। সেক্যুলার হিন্দুরা মুসলমানের অধিকারের জন্য মুসলমানের চেয়েও বেশি চিৎকার করে। সত্যি বলতে কী, মুসলমানদের নিরাপত্তা নেই পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, সিরিয়া, সৌদি আরব, এমন কী বাংলাদেশেও। যেখানে গণতন্ত্র নেই, বাক স্বাধীনতা নেই , থাকলেও লোক দেখানো, যেখানে শরিয়া আইন আছে বা যেখানে রাষ্ট্রের ধর্ম ইসলাম, সেখানে কারও নিরাপত্তা থাকতে পারে না।’



Leave a Reply